মিডল অর্ডারে লিটনকে লাইফলাইন

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪০ এএম

লিটন দাসের একদিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ক্যারিয়ারটা পৌঁছে গেছে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে, যেখান থেকে সহজে কেউ বেঁচে ফেরে না। সবশেষ ৮ ইনিংসে লিটন দুই অঙ্কের রানে পৌঁছাতে পারেননি। সবশেষ হাফসেঞ্চুরি ২০২৩ সালে। ব্যাটিং অর্ডারে ১, ২, ৩, ৪ সব জায়গাতেই সুযোগ দিয়ে দেখা হয়েছে লিটনকে। সর্বোচ্চ ৬, সর্বনিম্ন ০। সদ্যসমাপ্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে লিটন করেছেন যথাক্রমে ১০, ৫৫* ও ০, অসুস্থতার জন্য খেলেননি ফাইনালে। বিপিএলে সর্বোচ্চ রান ও সবচেয়ে বেশি ডিসমিসাল যার, সেই পারভেজ হোসেন ইমনকে যখন নির্বাচকরা পাকিস্তান সিরিজের দলের বাইরে রাখলেন, তখনই স্পষ্ট হয়ে যায় যে তারা লিটনকে একটা ‘লাইফলাইন’ দিতে চান। তাকে নামিয়ে আনতে চান মিডল অর্ডারে, যে জায়গায় টেস্টে লিটন ছন্দময়।

পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রস্তুতিপর্ব শুরু হয়েছে আগেই। সোমবার গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে এলেন প্রধান কোচ ফিল সিমন্স। শুরুতেই সালাম দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এই সাবেক ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডার। দলে লিটনকে নেওয়া এবং তাকে মিডল অর্ডারে খেলতে রাজি করানো, এই প্রসঙ্গে দুটো ভিন্ন ভিন্ন প্রশ্নে সিমন্স উত্তরে যা বলেছেন সেটা মেলালে এমনটাই দাঁড়ায়, ‘৫০ ওভার কিপিং করার পর ওপেন করা কঠিন। লিটন স্পিনের বিপক্ষে আমাদের অন্যতম সেরা ব্যাটার, তাই মিডল অর্ডারে তার অভিজ্ঞতা আমাদের কাজে দেবে। সে দলের প্রয়োজনে যে কোনো পজিশনে খেলতে রাজি আছে। তাকে মিডল অর্ডারে খেলতে আমাদের রাজি করাতে হয়নি, সে নিজেই দলের প্রয়োজনে যে কোনো জায়গায় ব্যাট করতে আগ্রহী। যে কোনো পজিশনে ব্যাটিং করা নিয়ে ওর কোনো সমস্যা নেই। আমার মনে হয়, এখন ও নিজের খেলাটা নিয়ে বেশ রিল্যাক্সড এবং দলের জন্য অবদান রাখার এই সুযোগটাকে ও ইতিবাচকভাবেই দেখছে।’

নির্বাচকরা মিডল অর্ডারের শক্তি বাড়াতে দলে ফিরিয়ে এনেছেন আফিফ হোসেনকে। তার ব্যাপারেও ইতিবাচক সিমন্স, ‘হ্যাঁ, মাঝের ওভারগুলোতে আমরা যতটা ভালো করতে চেয়েছিলাম, ততটা পারিনি। তাই আমি এখনই যেটা বললাম এটি এমন একটি জায়গা যেখানে আমরা অনেক বেশি জোর দিচ্ছি। ওই ওভারগুলোতে আমরা কত রান করছি, কতগুলো সিঙ্গেল নিচ্ছি বা কয়টি বাউন্ডারি মারছিসেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এটি একটি বড় অংশ।’

বাংলাদেশ সবশেষ ওয়ানডে খেলেছে গেল অক্টোবরে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে যে সিরিজটা বাংলাদেশ জিতেছিল ২-১ ব্যবধানে। সেই সিরিজে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পুরো ৫০ ওভারই স্পিনারদের দিয়ে বল করিয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ, সব মিলিয়ে সিরিজের ৩ ম্যাচে ১৯১ ওভার বল করেছেন স্পিনাররাই, অর্থাৎ সিরিজের প্রায় ৭০ শতাংশ ডেলিভারিই করেছেন স্পিনাররা। তবে সিমন্স মনে করেন, এখন মিরপুরের উইকেট খানিকটা বদলেছে, ‘আমার কাছে উইকেট এখন আগের চেয়ে অনেক ভালো মনে হচ্ছে। আমি বিপিএলের শেষদিকের অংশটা দেখেছি, এমনকি দুদিন আগের খেলাটাও; উইকেট এখনো অনেক ভালো দেখাচ্ছে। ক্রিকেটার হিসেবে আমরা এমন ভালো উইকেটই চাই যাতে নিজেদের দক্ষতার আসল পরীক্ষা নিতে পারি। তাই আমার মনে হয় উইকেটগুলো আরও ভালো হবে। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।’ ২০২৭ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে চলতি বছর ২৩টি ওয়ানডে খেলার সূচি এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত। সিমন্স জানালেন ব্যস্ত সূচিকে সামনে রেখে বিকল্প বাছাইয়েও তিনি মনোযোগী, ‘আমি আশা করি আমরা এখন থেকেই এটার সমাধান শুরু করতে পারব। যেহেতু সামনে বেশ কিছু ওয়ানডে ম্যাচ আছে, তাই আমরা চেষ্টা করছি অন্তত ২৩-২৪ জন খেলোয়াড়কে আমাদের সঙ্গে অনুশীলনে রাখতে। এতে করে যখনই সুযোগ আসবে, তারা যেন আমাদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতায় প্রস্তুত থাকে। তাই সিরিজের মূল ১৫ জনের বাইরেও আমাদের একটু বড় প্রাথমিক দল বা ‘পুল’ সঙ্গে রাখা প্রয়োজন।’ এই দীর্ঘ সূচির শেষ প্রান্তে আছে ২০২৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ, যে আসরে সরাসরি অংশগ্রহণ এখনো অনিশ্চিত বাংলাদেশের। সিমন্স বলছেন, র‌্যাংকিংয়ে আটের ওপরে থাকতে পারলে সেটাই হবে বড় অর্জন, ‘প্রথমত, পাকিস্তান ক্রিকেট থেকে আসা কাউকে আপনি কখনোই খাটো করে দেখতে পারেন না, কারণ সেখান থেকে সবসময়ই দারুণ সব প্রতিভা বেরিয়ে আসে। জাতীয় দলে খেলার অভিজ্ঞতা না থাকাটা বড় কোনো বিষয় নয়; এই স্কোয়াডে জায়গা করে নেওয়ার মতো যথেষ্ট ক্রিকেট তারা খেলেছে। আমার মনে হয়, আমাদের মূল লক্ষ্য এখন বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা নয়, বরং ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও উন্নতি করা। কয়েক বছর আগে আমরা এক জায়গায় পিছিয়ে ছিলাম, আবার কয়েক বছর আগে বাংলাদেশ ওয়ানডে ক্রিকেটে একদম শীর্ষে ছিল। আমাদের এখনো সেই অভিজ্ঞতা পুরোপুরি তৈরি হয়নি। তবে আমরা ছেলেদের নিয়ে কাজ করছি এবং এটা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি যেন আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী আমরা সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারি। র‌্যাংকিংয়ে কতদূর যেতে পারব, সেটা কোয়ালিফিকেশনের সময়ই দেখা যাবে; তবে আমরা যদি আটের ওপরে থাকতে পারি, তবে সেটা হবে আমাদের জন্য অনেক বড় অর্জন।’

রাজনৈতিক কারণে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা হয়নি বাংলাদেশের, আশানুরূপ পারফরম্যান্সের অভাবে যদি ওয়ানডে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগও হাতছাড়া হয়, তাহলে বাংলাদেশের ক্রিকেটে নেমে আসবে ঘোর অমানিশা। সেই আশঙ্কা যেন সত্যি না হয়, সে জন্যই পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজটা জেতা দরকার বাংলাদেশের।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত