কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার ১ 

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৩:০০ পিএম

রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান নাহিদ এন্টারপ্রাইজ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে হাসিবুল হাসান রাজিব (৩০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, মাত্র ২০ হাজার টাকা বেতনে হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি নেওয়া হাসিবুল গত পাঁচ বছরে (২০১৯-২০২৪) প্রতারণার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেন। প্রতিষ্ঠানের দাবি, তার আত্মসাৎ করা টাকার পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এ ঘটনায় দায়ের করা ১০ কোটি টাকার প্রতারণা মামলায় সোমবার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় রাজধানীর পল্টন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) চকবাজার থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা চকবাজার থানার এসআই মো. হারুন বলেন, ১০ কোটি টাকার প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কোনো মামলা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসিবুলের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণা ও জাল-জালিয়াতির মামলার অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলন সংশ্লিষ্ট একাধিক হত্যা মামলার সঙ্গেও তার নাম রয়েছে বলে জানা গেছে।

এদিকে নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তারা জানান, প্রায় দেড় বছর আগে প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাতের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে তাকে প্রতিষ্ঠানের সামনে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি আত্মসাৎ করা টাকার একটি অংশ ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করে লিখিত প্রতিশ্রুতিও দেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি কোনো অর্থ ফেরত দেননি।

বরং উল্টো প্রতিষ্ঠান ও তার কর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় অপপ্রচার চালিয়ে কর্তৃপক্ষকে হয়রানির চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এসব অপপ্রচারের উদ্দেশ্য ছিল যেন তার বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া না হয় এবং আত্মসাৎ করা অর্থের বিষয়ে তদন্তও না এগোয়।

তবে শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। এমনকি তাকে ধরিয়ে দিতে বিভিন্ন পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুরস্কার ঘোষণাও করা হয়েছিল।

জানা যায়, বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার আফালকাঠি এলাকার বাসিন্দা হাসিবুল হাসান রাজিব রাশিদা বেগম ও আবুল হোসেন শিকদারের ছেলে। তার বাবা একসময় একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। সেই সূত্রেই তিনি নাহিদ এন্টারপ্রাইজে হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরি পান।

অভিযোগ রয়েছে, আত্মসাৎ করা অর্থ দিয়ে মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় একটি ছয়তলা বিলাসবহুল বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। এছাড়া রাজধানীর উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় প্লট ও ফ্ল্যাটের শেয়ারও কিনেছেন।

নাহিদ এন্টারপ্রাইজের কর্মকর্তা মো. কেতাব আলী বলেন, হাসিবের কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করতে আমরা আইনের আশ্রয় নিই। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি বিভিন্ন সময় কোম্পানির একাধিক কর্মীর ওপর হামলা চালান এবং অপপ্রচার চালাতে থাকেন। আত্মসাৎ করা টাকায় তিনি বিপুল সম্পদ গড়েছেন।

প্রতিষ্ঠানটির আরেক কর্মকর্তা জানান, এক পর্যায়ে হাসিবুল তার শ্রীনগরের ছয়তলা বাড়িটি কোম্পানির নামে লিখে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। কিন্তু গত বছরের ৪ মে শ্রীনগর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে বাড়িটি রেজিস্ট্রি করতে গেলে উল্টো তিনি কোম্পানির এমডিসহ কর্মীদের ওপর হামলা চালান।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হাসিবুলের প্রতারণা ও আত্মসাতের সব প্রমাণ তাদের কাছে রয়েছে। তারা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরতের দাবি জানিয়েছেন।

চকবাজার থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আর্থিক প্রতারণার মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো যাবে। তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত