জঙ্গল সলিমপুরে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, আটক ২২

আপডেট : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধারের পাশাপাশি ২২ জনকে আটক করা হয়েছে। গত সোমবার ভোর সাড়ে ৫টা থেকে গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত প্রায় ৩০ ঘণ্টার এ অভিযান চলে।

অভিযানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, এপিবিএনসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৩ হাজার ১৮৩ জন সদস্য অংশ নেন। এ ছাড়া সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন।

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি (অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মো. আহসান হাবীব পলাশের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়। র‌্যাব-৭-এর সিও লে. কর্নেল মো. হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রাম রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. নাজিমুল হক এবং চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান সরেজমিনে উপস্থিত থেকে অভিযান তদারকি করেন।

অভিযানে তিনটি হেলিকপ্টার, ১৫টি এপিসি (আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার), র‌্যাব ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তিনটি ডগ স্কোয়াড এবং ১২টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়। আধুনিক প্রযুক্তি ও বিশেষ কৌশল প্রয়োগ করে দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিরুনি তল্লাশি চালানো হয়।

তল্লাশিতে তিটি আগ্নেয়াস্ত্র (একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশি পিস্তল ও একটি এলজি), ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৫৭টি অস্ত্র তৈরির পাইপ, ৬১টি কার্তুজ, ১ হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি, ১১টি ককটেল (বিস্ফোরক), পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া ১৯টি সিসি ক্যামেরা, থ্রিডি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স ও দুটি বাইনোকুলার উদ্ধার হয়, যা অপরাধীদের নজরদারিতে ব্যবহৃত হতো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযানে আলীনগর এলাকার পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্র তৈরির কারখানা ও অপরাধ নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়। পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত ওয়াচ টাওয়ারগুলোও ভেঙে দেওয়া হয়, যা দিয়ে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত।

অভিযানে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। উদ্ধারকৃত আলামত ও আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন। অভিযান শেষে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এসএম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে জেলা পুলিশ ও এপিবিএনের ১৩০ জন এবং আলীনগর উচ্চবিদ্যালয়ে আরআরএফ, এপিবিএন ও র‌্যাব-৭-এর ২৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট ও টহল বাড়ানো হয়েছে।

অভিযানের ফলে স্থানীয় জনগণের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা যৌথ বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত