সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বহুল প্রতীক্ষিত নবম পে স্কেল বা নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া বর্তমানে প্রস্তাবনা ও গভীর পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সরকার এই বেতন কাঠামো কার্যকর করার বিষয়ে নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থানে থাকলেও, বর্তমান অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে এর পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন কিছুটা বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সূত্রমতে, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি- বিশেষ করে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করেছে। এই প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়ার আশঙ্কা থাকায় সরকার নতুন পে স্কেল বাস্তবায়নে ‘ধীরে চলো’ নীতি অনুসরণ করছে। বৈশ্বিক এই সংকটের সময়ে বড় ধরনের আর্থিক দায়বদ্ধতা গ্রহণে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন।
সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, নতুন পে স্কেলের সুপারিশগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপি রেশিও দক্ষিণ এশিয়ায় তুলনামূলকভাবে কম। তাই বর্তমান রাজস্ব পরিস্থিতি এবং মোট ব্যয়ের পরিমাণ হিসাব করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে সরকারি কর্মচারীদের মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে রক্ষা করতে সরকার বিকল্প উপায়গুলোও খতিয়ে দেখছে।
গত বছরের জুলাই মাসে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের বেতন কমিশন ইতোমধ্যে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। গত ১০ মার্চ সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এক বৈঠকে কমিশনের সুপারিশগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। যদিও কমিশন তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে, তবে দেশের বর্তমান আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সব সুপারিশ একসাথে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নাও হতে পারে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে ধাপে ধাপে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের একটি প্রাথমিক প্রস্তাব রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বেতন কাঠামোর বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস দেওয়ায় কর্মচারীদের মধ্যে আশা জেগেছে। তবে চলতি অর্থবছরে ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব ঘাটতি থাকায় সরকার অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে এগোতে চায়।
আগামী জাতীয় সংসদ অধিবেশনে নতুন পে স্কেল এবং বেতন বৈষম্য নিরসনের বিষয়টি আলোচনায় আসতে পারে বলে জানা গেছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত এই কমিশন বর্তমান নির্বাচিত সরকারের কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করার পর এখন তা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিকভাবে চূড়ান্ত হওয়ার অপেক্ষায়। সরকারি চাকরিজীবীরা আশা করছেন, আসন্ন বাজেটে এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা আসতে পারে।
পাকিস্তানকে সিরিজ হারালে র্যাঙ্কিংয়ে কতটা উন্নতি হবে বাংলাদেশের?