জুলাই সংস্কারের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়ন চাই

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

খন্ডিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব নয় বরং জুলাই সংস্কারের পুরো প্যাকেজ বাস্তবায়ন চান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জুলাই সংস্কারের আলোকে বিরোধী দলের যতটুকু পাওনা, ততটুকুই চাই, এর বেশি নয়। এর ভিত্তিতেই যেন আমরা ন্যায্য দায়িত্বটা পালন করতে পারি। দেশের ভোট প্রয়োগ করা ৬৯ ভাগ মানুষ গণভোটে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে। এটাকে অগ্রাহ্য করার সুযোগ নেই। চব্বিশকে বাদ দিয়ে ছাব্বিশের অস্তিত্ব থাকবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গতকাল বুধবার দুপুরে জাতীয় সংসদের এলডি হলে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের বৈঠক শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা চাই জাতীয় সংসদ দেশ ও জাতির জন্য অর্থবহ বা কার্যকর ভূমিকা পালন করুক। জাতীয় সংসদে আমরা একটি দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চাই। সব ব্যাপারে বিরোধিতা নয়, আবার না বুঝেও সহযোগিতা নয়। দেশ ও জাতির কল্যাণে সরকারের গৃহীত সব পদক্ষেপে আমাদের সমর্থন-সহযোগিতা থাকবে। কিন্তু দেশ ও জাতির ক্ষতিকর কোনো সিদ্ধান্ত বা পদক্ষেপ নিলে আমরা আমাদের দায়িত্ব সেভাবেই পালন করব।

এর আগে বিরোধীদলীয় নেতার সভাকক্ষে জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে ১১-দলীয় ঐক্যের সংসদ সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম, হুইপ মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানসহ অন্য সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, জাতির প্রত্যাশা পূরণে বিরোধী দল ও নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে দেশ ও জাতির জন্য আমাদের ভূমিকা কী হবে, সে ব্যাপারে পরামর্শের জন্যই আমরা বসেছিলাম। আমাদের জোটের সব এমপি সেখানে উপস্থিত ছিলেন। খোলামেলা কথা বলেছি, মতামত নিয়েছি, পরামর্শ নিয়েছি।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রথমে ভুল করলে আমরা ভুল ধরিয়ে দেব, সংশোধনের সুযোগ দেব, পরামর্শ দেব। পরামর্শে কাজ না হলে প্রতিবাদ করব, প্রতিবাদে কাজ না হলে জনগণের অধিকারের পক্ষে আমরা শক্ত হয়ে দাঁড়াব।

গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিক বলেন, এ দুটি ভোট একে অন্যের পরিপূরক। প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু হবে। নির্ধারিত মেয়াদ শেষে তারাই আবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ কারণেই একই অর্ডিন্যান্সের প্রতি সম্মান রেখে আমরা প্রথম দিন দুটি শপথ গ্রহণ করেছি প্রথমে সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে এবং পরে সংসদ সদস্য হিসেবে।

জামায়াত আমির বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলন সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, অসংখ্য শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীর আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে সংঘটিত হয়েছে। সাড়ে ১৫ বছরের সংগ্রাম, নির্যাতন, গুম-খুন, কারাবরণ, আয়নাঘর এবং দেশান্তরের মতো বহু কষ্টের বিনিময়ে এ পরিবর্তন এসেছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরও এ দেশের মানুষ প্রকৃত স্বাধীন নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকার ভোগ করতে পারেনি। বারবার স্বৈরশাসন জাতির ঘাড়ে চেপেছে, দুঃশাসন ও দুর্নীতির কারণে সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি হয়েছে এবং মানুষের অধিকার খর্ব হয়েছে। তাই জুলাই আন্দোলন বলেছিল, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিজ’। আমরা সবক্ষেত্রে সুবিচার চাই এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়তে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত