ভোলায় ১৮ বছর এক্স-রে সেবা অচল, বিপাকে রোগী

আপডেট : ১২ মার্চ ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম

ভোলা জেলার একমাত্র বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি প্রায় ১৮ বছর ধরে বিকল হয়ে রয়েছে। ফলে ফুসফুসজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের পরীক্ষার জন্য পাশের ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যেতে হয়। কিন্তু সেখানেও গত দুই সপ্তাহ ধরে ফিল্মের অভাবে এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। এতে সরকারি হাসপাতালে এ সেবা না পেয়ে রোগীদের বাড়তি খরচে বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিকে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।

রোগীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এক্স-রে সেবা সচল না থাকায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ওপর নির্ভরশীল বলে জানিয়ে দায় এড়ানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ফুসফুসে ক্যান্সার, বুকে পানি জমা ও শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। অথচ ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের এক্স-রে মেশিনটি ২০০৮ সাল থেকেই অচল হয়ে আছে। ফলে এসব রোগের লক্ষণ নিয়ে আসা রোগীদের সাধারণত পাশের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল থেকে এক্স-রে করাতে বলা হয়। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ফিল্ম না থাকায় এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ থাকায় রোগীরা আরও বিপাকে পড়েছেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিন গড়ে প্রায় পাঁচ শতাধিক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। এর মধ্যে অন্তত ৫০ থেকে ৬০ জন রোগীর এক্স-রে পরীক্ষার প্রয়োজন হয়।

সরেজমিনে ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন এলাকা থেকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে আসছেন। দৌলতখান উপজেলার উত্তর জয়নগর এলাকার বাসিন্দা ৫০ বছর বয়সী মো. হিরন দীর্ঘদিন ধরে কাশিতে ভুগে চিকিৎসা নিতে এসেছেন। চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করার পরামর্শ দিলে তিনি ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন এক্স-রে কক্ষ বন্ধ এবং দরজায় একটি নোটিশ টাঙানো রয়েছে—ফিল্ম না থাকায় সাময়িকভাবে এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ। পরে তিনি বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ৫০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করান।

একই দিন সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে সদর উপজেলার ব্যাংকের হাট বাজার এলাকার ব্যবসায়ী মো. ফারুক চিকিৎসার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করার পরামর্শ দিলেও হাসপাতালে গিয়ে দেখেন এক্স-রে কক্ষের সামনে বন্ধের নোটিশ ঝুলছে। রোগী ও তাদের স্বজনরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে এমন নোটিশ ঝুললেও সমস্যার সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঝেমধ্যে ফিল্ম সংকটের কারণে কয়েকদিন পরপরই হাসপাতালে এক্স-রে কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, প্রায় ২২ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবার প্রধান ভরসা ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল। কিন্তু এত বড় হাসপাতালে প্রায়ই এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকে। ফলে গুরুতর রোগী নিয়েও বাইরে গিয়ে পরীক্ষা করাতে হয়। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

ভোলা বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতালের কনসালটেন্ট ডা. অমিত চ্যাটার্জি বলেন, বক্ষব্যাধি রোগ নির্ণয়ে এক্স-রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। কিন্তু এখানকার মেশিনটি ২০০৮ সাল থেকেই নষ্ট। বিষয়টি একাধিকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং তাদের প্রতিনিধি দল এসে পরিদর্শনও করেছেন। তবে এখনো স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. তৈয়বুর রহমান বলেন, এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও ফিল্মের স্বল্পতার কারণে মাঝে মাঝে এক্স-রে কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়। ফিল্ম ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে দ্রুতই এ সেবা আবার চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত