মালদ্বীপে নিহত তাজ উদ্দিনের গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম

আপডেট : ১৪ মার্চ ২০২৬, ০৫:২৬ পিএম

মালদ্বীপে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত তাজ উদ্দিনের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুরে চলছে শোকের মাতম। বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহত তাজ উদ্দিনের স্ত্রী অনন্তি বেগম। তিনি জানান, ৬ মাস আগে পরিবারের হাল ধরতে মালদ্বীপে পাড়ি জমান (স্বামী) তাজ উদ্দিন। বৃহস্পতিবার ভোররাতে নির্মাণকাজের পাশে গেস্টহাউজে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত হন তিনি। এখন কি করব, চারমাসের মেয়েসহ পরিবারের হাল ধরবে কে? এমনটাই বলে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন তিনি।

নিহত তাজ উদ্দিন সদর উপজেলার হাজিপপাড়া ইউনিয়নের আলাদাদপুর গ্রামের কাচারিবাড়ির আবুল কাশেমের ছেলে। আজ শনিবার বিকেলে নিহতের বাড়িতে গেলে দেখা যায় স্বজনদের শোকের মাতম। এ সময় স্বজনরা জানান, ধার-দেনা করে ৬ মাস আগে পরিবারের হল ধরতে মালদ্বীপে যান তাজ উদ্দিন। মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ড এলাকায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন তাজ উদ্দিন। ঘটনার দুদিন আগে স্বামী তাজ উদ্দিনের সঙ্গে কথা হয় স্ত্রী অনন্তি বেগমের। সেখানে স্ত্রীকে ঈদের কেনা-কাটার জন্য কিছু টাকাও পাঠানোর কথা ছিল। কিন্তু কে জানে, এই কথাই তাদের জীবনের শেষ কথা।

বৃহস্পতিবার ভোররাতে মালদ্বীপের দিঘুরা আইল্যান্ডের নির্মাণ কাজের সাইটে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় তাজ উদ্দিনসহ ৫ বাংলাদেশি নিহত হন। এ সময় আরও দুইজন দগ্ধ হন। শুক্রবারে তাজ উদ্দিনের মৃত্যুর খবরটি পরিবারের কাছে পৌঁছলে নেমে আসে শোকের ছায়া। তাজ উদ্দিন ছাড়া নিহত অন্যরা হলেন মো. সদর আলী, মো. রবিন মোল্লা, সফিকুল ইসলাম ও মো. নূরনবী সরকার।

মালদ্বীপে বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। এদিকে ছেলে তাজউদ্দিনের মৃত্যুর খবর শুনে বৃদ্ধ বাবা ও মা শোকে নির্বাক হয়ে পড়েন। এ সময় তাজউদ্দিনের বাবা আবুল কাশেম সাংবাদিকদের জানান, পরিবারের অভাব দূর করতে মালদ্বীপে যায় তাজ উদ্দিন। গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে তার মৃত্যুতে আমাদের স্বপ্ন ভেঙে গেছে। তার ঘরে চার মাসের শিশু কন্যার ভবিষ্যৎ নিয়ে দুঃচিন্তায় পড়েছি। দ্রুত ছেলের লাশ দেশ ফিরিয়ে আনতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। তাজ উদ্দিনের মৃত্যুর ঘটনাটি উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত