সদ্য সমাপ্ত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে তৈরি হওয়া নানা অনিশ্চয়তা ও বিতর্ক নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন আইসিসি চেয়ারম্যান জয় শাহ। শনিবার মুম্বাইয়ে আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া বিজনেস লিডার অ্যাওয়ার্ডস ২০২৬’-এ জয় শাহকে ক্রিকেটে বিশেষ অবদানের জন্য ‘আউটস্ট্যান্ডিং কন্ট্রিবিউশন টু স্পোর্টস’ পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। সেই অনুষ্ঠানেই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বা আইসিসি-র ঊর্ধ্বে কোনো দেশ বা দল হতে পারে পারে না।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে জয় শাহ বলেন, "এই আইসিসি বিশ্বকাপটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কারণ টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্দিষ্ট কিছু দলের অংশগ্রহণ এবং এটি কীভাবে আয়োজিত হবে তা নিয়ে প্রচুর গুঞ্জন ছিল।"
কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করেই তিনি সংস্থার সার্বভৌমত্ব বজায় রাখার ওপর জোর দিয়ে বলেন, "আইসিসি চেয়ারম্যান হিসেবে আমি বলতে পারি, কোনো দলই সংস্থার চেয়ে বড় নয় এবং কোনো একটি একক দল নিয়ে সংস্থা গঠিত হয় না। একটি সংস্থা হলো সকল দলের সমন্বিত রূপ।"
নিরাপত্তা অজুহাতে বাংলাদেশ এই টুর্নামেন্ট থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছিল এবং পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। জয় শাহর এই মন্তব্য সেই পরিস্থিতির দিকেই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে।
এবারের বিশ্বকাপের ব্যবসায়িক সাফল্য ও মাঠের লড়াই নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে শাহ জানান, এবারের আসর জনপ্রিয়তার সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে, "বিশ্বকাপের ভিউয়ারশিপ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে চুরমার করে দিয়েছে। ইতিহাসের প্রথমবারের মতো আমরা ৭.২ মিলিয়ন (৭২ লক্ষ) কনকারেন্ট ভিউয়ার রেকর্ড করেছি।"
পাশাপাশি সহযোগী দেশগুলোর পারফরম্যান্সের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, "আপনারা যদি দেখেন—যুক্তরাষ্ট্র ভারতকে কঠিন লড়াই দিয়েছে, নেদারল্যান্ডস পাকিস্তানকে বিপদে ফেলেছে, জিম্বাবুয়ে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে এবং নেপাল ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল ইংল্যান্ডের শিবিরে। আমি সকল সহযোগী দলগুলোকে অভিনন্দন জানাই, তারা পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর বিপক্ষে অসাধারণ খেলেছে।"
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও যোগ করেন, "আমি যখন বিসিসিআই-তে ছিলাম, তখন ২০২৮ অলিম্পিক পর্যন্ত পরিকল্পনা করে রেখেছিলাম। এখন আমি আইসিসি-তে আছি এবং অন্যরা বিসিসিআই-এর দায়িত্বে। আপনাদের সকলের উচিত ২০৩০, ২০৩১ এমনকি ২০৩৬ সালের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।"
জয় শাহ ২০১৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিসিসিআই-এর সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, যে সময়ে ভারত একাধিক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জয়সহ অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বর্তমানে তিনি আইসিসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে বিশ্ব ক্রিকেটের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করছেন।
