আলীম উদ্দীন খান (৫৫) ঘুরছেন বাজারের ওষুধের এক ফার্মেসি থেকে আরেক ফার্মেসিতে। ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে এক সময় মন খারাপ করে এক ফার্মেসির (ওষুধের দোকান) সামনে কাঁদো কাঁদো চেহারায় ঝিম ধরে বসে পড়েন। তার চেহারায় ভয় আর শঙ্কা চরমে। এবার হয়তো তার কলিজার টুকরা নাতিকে বাঁচানো যাবে না। কিছু দিন আগে কুকুর কামড় দিয়েছিল পরে ডাক্তারের পরামর্শে পর পর দুই ডোজ জলাতঙ্ক (র্যাভিস দুই ভায়েল) ভ্যাকসিন দেন। এর পর থেকে আর বাজারে মিলছে না জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন।
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারের মানুষের ওষুধের ফার্মেসি ঘুরে জানা গেল অন্তত ছয় মাস ধরেই জলাতঙ্ক (র্যাভিস) ভ্যাকসিনের সংকট চলছে। সরকারি পর্যায়েও সহসা মিলছে না এ ভ্যাকসিন। এ নিয়ে মানুষের মধ্যে চরম হতাশা আর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গেল চার মাস ধরে প্রায় ওষুধের দোকানে জলাতঙ্ক (র্যাভিস) ভ্যাকসিন শূন্য হয়ে পড়ে আছে। চাহিদার তুলনায় সাপ্লাই করতে পারছে না ওষুধ কোম্পানি। এদিকে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিন আমাদের দেশীয় মাত্র দুটি ওষুধ (ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল এবং পপুলার ফার্মাসিউটিক্যাল) কোম্পানি উৎপাদন করে। ফলে চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
ফার্মেসিতে কর্মরত লোকজন বলছেন ওষুধ কোম্পানির অফিসাররা (মার্কেটিং অফিসার) অর্ডার নিয়ে যান। তবে অন্যসব ওষুধ ঠিক ডেলিভারি করলেও জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন ভেলিভারি করেন না। পরে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা বলে কোম্পানিতে সাপ্লাই নেই।
একটি সূত্র বলছে, শ্রীপুরে জলাতঙ্ক রোগের ভ্যাকসিনের রেগুলার চাহিদা ছিল মাসে ৪শ-৭শ ভায়েল। এখন সেই চাহিদা গিয়ে দাঁড়িয়েছে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার ভায়েল-এ। ফলে এখন আর সহজেই মিলছে না ভ্যাকসিন। ঘরে ঘরে পশু (বিড়াল/কুকুর) পালনের ফলে এ চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।
শ্রীপুর চৌরাস্তা এলাকার পুষ্প মেডিকেল হলের স্বত্বাধিকার মোক্তার হোসেন খান বলেন অনেক দিন ধরেই জলাতঙ্ক ভ্যাকসিন সংকট চলছে। পঞ্চাশ ভায়েল অর্ডার করলে দশ ভায়েল পাওয়া যায়। বিড়াল কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত একজনের জন্য পাঁচ ভায়েল ভ্যাকসিন লাগে।
ইনসেপ্টা ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানির ভ্যাকসিন টেরিটরি ইনচার্জ (গাজীপুর) জুবায়ের জানান, অনেকদিন ধরেই মার্কেটে আমাদের র্যাভিস ভ্যাকসিন সংকট চলছে। আমরাও বেশ বেকায়দায় আছি। প্রতিদিন শত শত ফোন আসে ভ্যাকসিনের জন্য কিন্তু দিতে পারি না।
শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. বিজন মালাকার বলেন, প্রতিদিনই আমাদের কাছে ১৫-১৬ জন রোগী আসে কুকুর কিংবা বিড়ালের কামড়ে আক্রান্ত হয়ে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে এটার একমাত্র স্থায়ী ও নিরাপদ চিকিৎসা ভ্যাকসিন দেওয়া।
