জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) করদাতাদের সামগ্রিক তথ্য সংরক্ষণ করলেও নারী করদাতাদের আলাদা কোনো ডেটাবেস বা তথ্য সংরক্ষণ করে না। ফলে রাজস্ব খাতে নারীদের অবদান আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। তাই প্রতিবছর নারী কর দাতাদের পৃথক তথ্য প্রকাশের দাবি করেছেন নাগরিকরা।
রবিবার (১৫ মার্চ) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ কমপ্লেক্স ‘নারীর সুরক্ষা, ন্যায়বিচার ও অধিকার’ শীর্ষক সম্মেলনে এই সব কথা বলেন বক্তারা। খ্রীষ্টিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি) আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে এই সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
এতে মুল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. শরমিন্দ নীলোর্মি। এছাড়া আরো আলোচনা করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (জলবায়ু পরিবর্তন) উম্মে সালমা সুমি, নারী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট কামরুন নাহার, সিসিডিবি কমিশনের সভাপতি ডেভিড এ. হালদার, জাতীয় আদিবাসী নারী নেটওয়ার্ক এর সাধারণ সম্পাদক ফাল্গুনী ত্রিপুরা, প্রমুখ।
গবেষণা তথ্য উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধে শরমিন্দ নীলোর্মি বলেন, চাকরিতে কর্মজীবী নারীদের একটি বিশেষ পর্যায়ের পর বেতন বাড়ে না। অথচ নারীরা সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দেয়। কিন্তু এনবিআর কখনো নারী এবং পুরুষের ডাটা আলাদাভাবে প্রকাশ করা করে না। এমনকি এনবিআর বিভাগটি কখনোই জেন্ডার বাজেটেও অংশ নেয় না।
তিনি বলেন, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ৩ মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৪০ লাখ লোক ই-রিটার্ন দিয়েছেন। এই তথ্য থেকে আলাদা করে নারী কর দেয়ার হার খুঁজে বের করতে হয়েছে। দেখা গেছে, করদাতাদেও মধ্যে ৩০ শতাংশ নারী রয়েছে। আলাদা ডাটা প্রকাশ না করার কারণে রাজস্ব খাতে নারী অবদান দেশের মানুষ জানেই না। তাদের অবদানের স্বীকৃতি জানাতে ও অর্থনীতিতে তাদের অংশগ্রহণ তুলে ধরতে নারী কর দাতাদের আলাদা ডাটা প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
নীলোর্মি আরও বলেন, কৃষক বলতে আমরা যেভাবে পুরুষ কৃষককেই স্বীকৃতি দিচ্ছি। কিন্তু তার স্ত্রী যে মাঠে কাজ করছে সেইটা আমরা স্বীকৃতি দেই না। ফলে এখানেও তারা বঞ্চিত রয়ে যাচ্ছে।
সংবিধানেও নারী অধিকার সুরক্ষিত হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনজীবি কামরুন নাহার। তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে আমাদের অধিকার বঞ্চিত করা হয়েছে। এখানে মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়নি। তাই নারী নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হলে সংবিধানসহ সব আইনে নারী-পুরুষের বৈষম্যমূলক বিধান দুর করতে হবে।
আবার ফাল্গুনী ত্রিপুরা বলেন, আদিবাসী নারীরা ধর্ষণের শিকার হলে মামলা নেওয়াতে গাফিলতি করা হয়। এমনকি বাংলা ভাষায় স্বাচ্ছন্দ না হওয়ায় ধর্ষণের শিকার হওয়ার পরও বিচারিক প্রক্রিয়াও সঠিক সাক্ষ্য দিতে পারে না। ফলে ন্যায় বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আদিবাসী নারীরা।
