নদী রক্ষায় সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলছে ‘আমরা দুর্বার’

আপডেট : ১৬ মার্চ ২০২৬, ১১:২৭ এএম

নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে এবং নদীবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়াতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’। সংগঠনটির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল ও ঈদ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, নদী রক্ষা করতে হলে নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকাও সুরক্ষিত করতে হবে।

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে নদী ও পরিবেশ নিরাপত্তায় কাজ করা সামাজিক সংগঠন ‘আমরা দুর্বার’-এর উদ্যোগে রাজধানীতে শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে আলোচনা সভা, ইফতার মাহফিল এবং জেলে-মাঝি ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ কর্মসূচি।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিন। তিনি বলেন, নদী রক্ষার বিষয়টি কেবল আলোচনা বা বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না; এর জন্য বাস্তবমুখী উদ্যোগ প্রয়োজন। নদী দখল ও দূষণ প্রতিরোধে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি নদীর তীরবর্তী মানুষের স্বার্থ রক্ষায়ও বিআইডব্লিউটিএ কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, নদীকে ঘিরে যে সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠছে, তা ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে।

এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নদী রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন বহুমাত্রিক লেখক, কবি ও দৈনিক দেশ রূপান্তরের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। তিনি বলেন, নদী রক্ষার প্রশ্নটি মূলত নদীর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। মাঝি, জেলে ও নদীবর্তী মানুষের জীবন-জীবিকা রক্ষা না করলে নদী রক্ষা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, ‘নদী বাঁচলে তারা বাঁচবে, আর তারা বাঁচলে নদীও বাঁচবে’—এই বাস্তবতা মাথায় রেখে নদী রক্ষার আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে হবে।

রিভারাইন পিপল-এর প্রতিষ্ঠাতা ও মহাসচিব এবং দৈনিক সমকাল-এর সহযোগী সম্পাদক শেখ রোকন বলেন, নদীকে শুধু সংরক্ষণ করলেই হবে না; সমাজের ভেতরেই নদীর স্বাভাবিক কার্যকারিতা ফিরিয়ে দিতে হবে। নদীর সঙ্গে যুক্ত মানুষের জীবন ও পেশা টিকিয়ে রাখতে পারলেই নদী রক্ষা সহজ হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে নদী নিয়ে কাজ করা সামাজিক সংগঠনগুলো যদি ছোট ছোট উদ্যোগ নেয়, তবে তা একসময় বড় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিতে পারে।

বক্তারা বলেন, নদী দখল ও দূষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে এবং নদীর পাড়ে বসবাসকারী মানুষ, জেলে-মাঝি ও নদীর ওপর নির্ভরশীল জনগোষ্ঠীকে সচেতন করতে হবে।

অনুষ্ঠানে তরী বাংলাদেশের আহবায়ক শামীম আহমেদ বলেন, তিতাস নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ দখল চিহ্নিত করার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমতি পাওয়া গেলে সেখানে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বক্তারা আরও বলেন, শুধু রাজধানীর চারটি নদী নয়, দেশের গ্রাম, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের ছোট ছোট নদীগুলোকেও রক্ষা করা জরুরি। এসব নদী হারিয়ে গেলে স্থানীয় পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও মানুষের জীবন-জীবিকা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নদীর ওপর নির্ভরশীল জেলে-মাঝি ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়। পরে অংশগ্রহণকারীদের সম্মানে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

‘আমরা দুর্বার’-এর সভাপতি এ সালাম সময় বলেন, নদী ও পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত মানুষদের একত্রিত করা এবং নদীবর্তী মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নদী ও পরিবেশ রক্ষার বিষয়ে সচেতনতা আরও বাড়াবে এবং নদী রক্ষার সামাজিক আন্দোলনকে শক্তিশালী করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত