চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার ৯ ইউনিয়নেই কমবেশি পাহাড় রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি পাহাড় বেষ্টিত হলো চুনতি ইউনিয়ন। এই ইউনিয়নের অধিকাংশ জায়গা জুড়ে রয়েছে চুনতি অভয়ারণ্য। কিন্তু প্রতিনিয়ত রাতে মাটিখেকোরা পাহাড় ও কৃষি জমি কেটে ইটভাটায় মাটি বিক্রি করছেন। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন কিছু জায়গায় অভিযান পরিচালনা করলেও কমছে না এলাকার পাহাড় কাটা। যা এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য মারত্মক হুমকিস্বরূপ।
তবে সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে স্থানীয়না প্রতিবাদ করলেই তাকে হত্যা বা হামলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, উপজেলার চুনতি ইউনিয়ন ছাড়াও চরম্বা, বড়হাতিয়া, পুটিবিলি, কলাউজান ও পদুয়া ইউনিয়নে প্রতিনিয়ত রাতে পাহাড়া ও টিলা কেটে মাটি নিয়ে ইটভাটায় বিক্রি করছে। এসব শক্তিশালী মাটিখেকোদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করলেই নেমে আসে হুমকি বা আক্রমণ।
সম্প্রতি চুনতি ইউনিয়নের চুনতি মহিলা কলেজ সংলগ্ন বাগানপাড়া এলাকার বিশাল পাহাড়টি প্রায় সম্পূর্ণ কেটে ফেলা হচ্ছে। এতে স্থানীয় কিছু যুবক ব্যানার হাতে নিয়ে প্রতিবাদ করেন। গত ১৪ মার্চ রাত ৯টায় পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী এক যুবক জনৈক সাইদুর রহমানকে চুনতি মুন্সেফ বাজার এলাকায় একা পেয়ে ধরালো ছুরি দিয়ে হামলা করে গুরুতর আহত করেন স্থানীয় মাটি ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে সাইদুর রহমান লোহাগাড়া উপজেলা সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এছাড়াও অপর এক ঘটনায় চরম্বা ইউনিয়নের জান মোহাম্মদ পাড়ার শিক্ষক ছরওয়ার কামাল বলেন, রাতের আঁধারে আমার মালিকানাধীন পাহাড় কেটে ফেলায় আমি অভিযোগ করলে প্রতিনিয়ত আসামিরা আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ করেও উপজেলা প্রশাসন থেকে কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় চুনতি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য আল মোহতাদির জানান, গত ১৪ মার্চ রাতে সাইদুর রহমানের ওপর হামলা ঘটে। পাহাড় কাটার বিরোধকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। তবে তিনি বলেন, শুনেছি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে এ পাহাড় কাটা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে আহত সাইদুর রহমানের ভগ্নিপতি নুরুল কিবরিয়া বলেন, ইতোমধ্যে আমরা লোহাগাড়া থানায় মো. রায়হান , মিনহাজুল আবরার , জাওয়াদ বিন আরিফ ও সাইফুল ইসলামকে আসামি করে অভিযোগ করেছি।
এ ব্যাপারে লোহাগাড়া থানার ওসি (তদন্ত) প্রশান্ত ভৌমিক জানান, আমরা চুনতির সাইদুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে আসামীদের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন।
অভিযোগের বিষয়ে লোহাগাড়া ইউএনও সাইফুল ইসলাম বলেন, চুনতিতে পাহাড় কাটার জন্য আমার অনুমতি থাকলে তাদের কাগজ দেখাতে বলেন। তাছাড়া লোহাগাড়ায় দিনে বা রাতে যখনই পাহাড় কাটা হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তবে চুনতির পাহাড় কাটাকে কেন্দ্র করে যে হামলা হয়েছে সেটা নিন্দনীয়।
