জাতীয় কর্মশালা আয়োজন করলো ওয়াটারএইড বাংলাদেশ

আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৬, ০৬:৪৮ পিএম

সুইডেন দূতাবাসের সহায়তায় রবিবার (১৫ মার্চ)‘ওয়াশ ফর আরবান পুওর (ওয়াশফরআপ) দ্বিতীয় পর্যায়’ প্রকল্পের জাতীয় কর্মশালা আয়োজন করেছে ওয়াটারএইড বাংলাদেশ। 

এপ্রিল ২০২৩ থেকে মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের অর্জনসমূহ, শিক্ষণীয় বিষয়, প্রতিবন্ধকতাসমূহ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অভিমত তুলে ধরাই ছিল এই আয়োজনের উদ্দেশ্য। অনুষ্ঠানে প্রকল্পের শুরু ও শেষের তুলনামূলক ফলাফল প্রদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশের শহুরে দরিদ্রদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জলবায়ু-সহনশীল ওয়াশ (পানি, স্যানিটেশন এবং হাইজিন) সেবা টেকসই ও সম্প্রসারণের অগ্রাধিকারমূলক দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের পলিসি সাপোর্ট অধিশাখার যুগ্মসচিব এবং অনুষ্ঠানের সম্মানিত অতিথি মো. সাইফুল ইসলাম মজুমদার বলেন, “আজকের এই আয়োজনে অনেক বিষয় উঠে এসেছে, সেটাই আমাদের পলিসিতে উঠে আসবে এবং পরবর্তীতে পলিসি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।” 

অন্যান্য সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় অবস্থিত সুইডেন দূতাবাসের ফার্স্ট সেক্রেটারি (পরিবেশ ও জলবায়ু) এবং উন্নয়ন সহযোগিতার উপ-প্রধান নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম এবং ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান সমাজকল্যাণ এবং বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. মামুন-উল-হাসান। নায়োকা মার্টিনেজ-ব্যাকস্ট্রম বলেন, “ওয়াটারএইড-এর সঙ্গে আমাদের যে অংশীদারিত্ব রয়েছে, তা শুধু এই প্রকল্পের দুইটি ধাপের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় দুই দশক ধরে আমাদের ওয়াটারএইড-এর সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। আর বিশ্বের অনেক জায়গাতেই, বিশেষ করে সবার জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত এবং টেকসই পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করতে, আমরা ওয়াটারএইড-এর সহযোগিতায় কাজ করছি। আমরা এ বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দিই যে, পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধি (ওয়াশ) খাত কোনো বিচ্ছিন্ন কিছু নয়; বরং এতে এমন অনেক বিষয় ও উপাদান রয়েছে যা এ খাতের ওপর নির্ভরশীল বা এর ওপর প্রভাব ফেলে এবং যেগুলো একসঙ্গে কাজ করলেই ওয়াশ খাতটি ভালোভাবে কার্যকর হতে পারে।”

মো. মামুন-উল-হাসান উল্লেখ করেন, “অবকাঠামো ও সেবা চলমান রাখার সাথে সাথে স্থানীয় নাগরিকদের প্রতি দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমরা চাই, ওয়াটারএইড যে কাজের মাধ্যমে আমাদের নগরকে আলোকিত করছে, তার পরিধি আরো বৃদ্ধি পাক।” 

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর হাসিন জাহান। হাসিন জাহান তাঁর সমাপনী বক্তব্যে সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “ওয়াটারএইড-এর কার্যক্রমে উদ্বুদ্ধ হয়ে শিক্ষা অধিদপ্তর নিজস্ব অর্থায়নে স্কুল পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইতিবাচক ওয়াশ-আচরণ পরিবর্তনে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এছাড়াও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ওয়াসা, সিটি কর্পোরেশন ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান সমূহের সমন্বয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সমন্বিত গবেষণা পরিচালনার গুরুত্ব তুলে ধরেন।” 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ও কোয়ালিটি অ্যাসিউরেন্স ডিরেক্টর আজমান আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেন, “নগর ওয়াশ-ব্যাবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় নাগরিক সমাজের সাথে সামঞ্জস্য স্থাপন করায় গুরুত্বারোপ করার ক্ষেত্রে টেকসই নগর ওয়াশ-ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে।”  এরপর প্রকল্প নিয়ে আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনা প্রদান করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ও পলিসি অ্যাডভোকেসি ডিরেক্টর পার্থ হেফাজ শেখ। পরবর্তীতে একটি উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব পরিচালনা করেন ওয়াটারএইড বাংলাদেশের পলিসি ও অ্যাডভোকেসি লিড ফয়জউদ্দীন আহমদ। 

অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, সরকারি কর্মকর্তা, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, থিংক ট্যাংক, খাত-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ এবং এনজিও/আইএনজিও প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত