যানজটহীন সড়কে বাড়ি ফিরছে মানুষ

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ১০:১১ এএম

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রিয়জনদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে রাজধানী ছাড়ছে মানুষ। প্রতি বছর ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজটের ভোগান্তি একটি নিয়মিত চিত্র হলেও এবারের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। মহাসড়কে যানবাহনের ব্যাপক চাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোথাও চিরচেনা যানজট দেখা যায়নি। উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীরা স্বাভাবিক গতিতেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন। 

বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কের এলেঙ্গা বাস স্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর বাইপাসসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, যানবাহনগুলো কোনো বাধা ছাড়াই চলাচল করছে। যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস এবং মোটরসাইকেলের আধিক্য অনেক বেশি। অনেক যাত্রী বাস না পেয়ে ট্রাক ও পিকআপে করেও গন্তব্যে রওনা হয়েছেন। ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল এবং মাইক্রোবাসেও যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সেতুর ওপর দিয়ে রেকর্ড সংখ্যক যানবাহন পারাপার হয়েছে। সোমবার রাত ১২টা থেকে মঙ্গলবার রাত ১২টা পর্যন্ত মোট ৪৬ হাজার ৯৬৩টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ২৭ হাজার ৪৯৮টি এবং ঢাকাগামী ১৯ হাজার ৪৪৫টি যানবাহন রয়েছে। এই একদিনে সেতুতে মোট ৩ কোটি ৩৯ লাখ ৪ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় করা হয়েছে। 

সেতু পারাপার দ্রুত করতে যমুনা সেতুর উভয় পাশে ৯টি করে মোট ১৮টি টোল বুথ চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মোটরসাইকেলের জন্য রয়েছে বিশেষ আলাদা বুথ। যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে যাতে কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা না ঘটে। সেতুর দুই প্রান্তে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

এলেঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মুহাম্মদ শরীফ জানান, গাজীপুর থেকে এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের সুবিধা পাওয়ায় যাত্রীরা খুব দ্রুত যাতায়াত করতে পারছেন। এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সড়ক নিয়ে যানজটের আশঙ্কা থাকলেও এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি আরও জানান, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে মহাসড়কে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন রয়েছে এবং তারা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত