ঈদে বাবার বাড়ি নিয়ে না যাওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীকে পিটিয়ে আহত

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২১ পিএম

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা পশ্চিম পাড়া গ্রামে স্ত্রীকে ঈদে বাবার বাড়ি নিয়ে না যাওয়ায় শ্বশুর-শাশুড়ি ও স্বামীকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রী সাবিনা খাতুন (২৬) এর বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) রাতে কাজিপুর উপজেলার চালিতাডাঙ্গা ইউনিয়নের ভানুডাঙ্গা পশ্চিম পাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। 

আহতরা হলেন- মাদরাসা শিক্ষক মো. লুৎফর রহমান (৩৬), শ্বশুর মো. আমজাদ হোসেন (৯২) ও শাশুড়ি মোছা. রাজিয়া সুলতানাকে (৭৫)। 
 
এলাকাবাসী আরও জানায়, আমজাদ হোসেনের ছেলে মো. লুৎফর রহমান (৩৬) চট্টগ্রামের শিল্পজোন এলাকার একটি মাদরাসার শিক্ষক। তিনি ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ছুটিতে নিজ বাড়িতে এসেছেন। তার উপার্জনের টাকায়ই তাদের সংসার চলে। ঈদ উপলক্ষে লুৎফর রহমান তার স্ত্রী সাবিনা খাতুনকে সঙ্গে নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করেন। পরে স্ত্রী সাবিনা খাতুন বাবার বাড়ি ধুনুট উপজেলার গোসাইবাড়িতে ঈদ পালনের বায়না ধরেন। এতে লুৎফর রহমান রাজি না হয়ে নিজ বাড়িতে বাবা-মার সাথে স্বপরিবারে ঈদ করবেন বলে জানান।  

পরে স্ত্রী সাবিনা খাতুন উত্তেজিত হয়ে স্বামী লুৎফর রহমানের সঙ্গে ঝগড়ায় জড়িয়ে পরেন। এ সময় লুৎফর রহমান তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু সাবিনা খাতুন আরও উত্তেজিত হয়ে পাশের বাড়ির ঘনিষ্ঠজনদের ডাক চিৎকার শুরু করেন। সাবিনার ডাক চিৎকার শুনে সাবিনার ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী রমজান আলীর ছেলে রাজমিস্ত্রী সবুজ শেখ, আবু বকর সিদ্দিকীর ছেলে আবুল কালাম ও সাহেব আলীর ছেলে রিকশা চালক সেলিম শেখ ছুটে এসে রাতে লুৎফর রহমানকে ঘর থেকে ডেকে বের করে মারপিট শুরু করে। এ সময় লুৎফর রহমানের বাবা আমজাদ হোসেন ও মা রাজিয়া খাতুন ছেলে লুৎফর রহমানকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাদেরকেও তারা বেধরক মারপিট করে গুরুতর আহত ও রক্তাক্ত জখম করে। পরে হামলাকারিদের আঘাতে লুৎফর রহমানের বাম চোখের নিচে ও মুখমণ্ডল ফেটে রক্তাক্ত ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম, বাবা আমজাদ হোসেনের হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত জখম ও মা রাজিয়া খাতুনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম হয়। পরে প্রতিবেশীরা আহতদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন এবং হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। 

আহত লুৎফর রহমানের বোন রত্না খাতুন বলেন, বিয়ের পর আমার ভাই লুৎফর রহমান সংসারের খরচ যোগাতে বিভিন্ন স্থানে চাকরি করার একপর্যায়ে বর্তমানে সে চট্টগ্রামের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করছেন। মাঝে মধ্যে ছুটিতে বাড়িতে এলেই তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন প্রায়ই অসদাচরণ করেন। ফলে সংসারে সব সময় অশান্তি লেগেই থাকে।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আ. সামাদ বলেন, ঘটনাটি শুনেছি এ বিষয়ে মীমাংসার চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্ততি চলছে বলে জানান আহত লুৎফর রহমান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত