ঈদযাত্রায় ইলিশা লঞ্চঘাটে নৈরাজ্য: অতিরিক্ত ভাড়ায় জিম্মি যাত্রী

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:৩৬ পিএম

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে ঘিরে ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তেই ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে সৃষ্টি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। শৃঙ্খলার অভাব আর নজরদারির ঘাটতিতে যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ উঠেছে, সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কিছু অসাধু পরিবহনচালক ও দালাল চক্র যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছে।

বুধবার (১৮ মার্চ) সরেজমিনে ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, নৌযান চলাচলে কোনো নির্ধারিত শৃঙ্খলা মানা হচ্ছে না। যাত্রী ওঠানামায় নেই সঠিক ব্যবস্থাপনা। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চলাচল করছে লঞ্চ, স্পিডবোট ও ট্রলার। এতে করে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। 

শুধু নদীপথ নয়, ঘাটসংলগ্ন সড়কেও একই চিত্র। সিএনজি, অটোরিকশা ও ইজিবাইক চালকরাও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে করে যাত্রীদের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।

অপেক্ষমাণ যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে জিম্মি করে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নারী, শিশু ও বয়স্ক যাত্রীরা।

স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদারকির অভাবেই এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘাটে দায়িত্বপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কিংবা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা চোখে পড়েনি বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে এখনো দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। যাত্রীদের দাবি, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে দ্রুত তদারকি বাড়ানো এবং অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। 

সচেতন মহলের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই ঈদে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

এ বিষয়ে ভোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “ঈদকে কেন্দ্র করে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ অনেক বেড়েছে। পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সবাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। সারাদিনই আমাদের নজরদারি রয়েছে, আমিও কয়েক ঘণ্টা ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনায় দায়িত্ব পালন করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার অভিযোগ কিছু পাওয়া যায়। তবে অনেক সময় যাত্রীরাই তাড়াহুড়ার কারণে বেশি ভাড়া দিয়ে দেন। 

নির্দিষ্টভাবে অভিযোগ পেলে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি, কিন্তু বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোন গাড়ি বা কারা ভাড়া বেশি নিচ্ছে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয় না।”

ওসি মনিরুল ইসলাম জানান, ভোলা সদর ছাড়াও আশপাশের উপজেলা থেকে আসা কিছু যানবাহন একমুখী যাত্রী পরিবহন করায় ফেরার নিশ্চয়তা না থাকায় কিছু ক্ষেত্রে বেশি ভাড়া নেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত চাপের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু অনিয়ম ঘটলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।”

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত