স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫৫তম বার্ষিকী আজ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৩ এএম

আজ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে জয়দেবপুরে (গাজীপুর) ভাওয়াল রাজবাড়ীতে তৎকালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য জয়দেবপুর সেনানিবাসে আগমন করবে এই খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনসাধারণ বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তারা রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তুলে। ওই সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম শফিউল্লাহ। এ সময় গাজীপুরের রাজনৈতিক নেতা (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) মরহুম শামসুল হক পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধের লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সংসদ সদস্য মরহুম হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড এবং ৯ সদস্যবিশিষ্ট অপর একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। নেতাদের পরামর্শে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা পাক হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধকল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহুসংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে। দুপুরের দিকে পাক হানাদার বাহিনী চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করে সেনানিবাসে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা আবার রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতা জয়দেবপুর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে মালগাড়ির ওয়াগন ফেলে বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলে।

সেনানিবাস থেকে ফেরার পথে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পাক হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। পাক হানাদার বাহিনীর প্রতি মরহুম কাজী আজিম উদ্দিন আহমেদ (মাস্টার) নিজ বন্দুক দিয়ে প্রথম গুলিবর্ষণ করেন। ওই সময় হানাদার বাহিনী পাল্টা গুলিবর্ষণ করলে নিয়ামত, মনু খলিফা শহীদ হন এবং ডা. ইউসুফ আলী সরকার, শাহজাহান, সন্তুষসহ বহু লোক আহত হন।

এ দিবসটি উদযাপন উপলক্ষে গাজীপুর জেলা প্রশাসন, ১৯ মার্চ উদযাপন কমিটি, মুক্তিযোদ্ধা সংসদসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসমূহ ও শহীদ হুরমত স্মৃতি সংসদ দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

এদিকে চান্দনা চৌরাস্তায় বিআরটি প্রকল্পের ফ্লাইওভার নির্মাণের কারণে জাগ্রত চৌরঙ্গিটি এখন আর আগের মতো দৃশ্যমান নেই। এ ভাস্কর্যটি দৃশ্যমান করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত