বাউফলে বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ ‘পপিসিড’ জব্দ

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২৬, ০২:২৩ পিএম

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দর বাজার থেকে বিপুল পরিমাণ আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ নেশাজাত পণ্য ‘পপিসিড’ জব্দ করেছে পুলিশ।  
বুধবার (১৮ মার্চ) রাত দেড়টার দিকে উপজেলা কালাইয়া বন্দর বাজার থেকে পপিসিড বোঝাই কার্গোটি আটক করা হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরিশালের বাসিন্দা জয়দেব নামের এক ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে চোরাকারবারি চক্রের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তার সহযোগী হিসেবে কাজ করছেন তার শ্যালক কালাইয়া ইউপির ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মধু মেম্বারের ছেল উত্তম দাস ও তার ভাই আশিস দাস। ৯৪৫ বস্তা পপিসিডসহ কার্গোটি ওই এলাকায় আনা হয়। সেখান থেকে ২ দফায় কাভার্ড ভ্যানে করে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। পরে সন্দেহ হলে এলাকাবাসী কার্গোটি আটক করে পুলিশে খবর দেয়। রাত প্রায় ১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কার্গোটি আটক করে হেফাজতে নেয় এবং অবশিষ্ট পণ্য জব্দ করে।

তবে রহস্যজনকভাবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করছে না পুলিশ। রাতে উত্তম দাস বাউফল থানায় বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করলেও পুলিশ তাকে আটক করেনি। 

জব্দকৃত পপিসিড থেকে আফিম, মরফিন, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য তৈরি করা কাঁচামাল হিসেবে পপিসিড ব্যবহৃত হয়। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ অনুযায়ী পপিসিড একটি নিষিদ্ধ ‘ক’ শ্রেনীর মাদক হিসেবে বিবেচিত হয়। আমদানি, রপ্তানি, মজুদ, উৎপাদন ও পরিবহন ইত্যাদি সকল কিছু দণ্ডনীয় অপরাধ।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সর্বশেষ ২০২৫ সালের ৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরে প্রায় ২৫ টন ‘পপিসিড’ জব্দ করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় বাংলাদেশব্যাপী চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং বাংলাদেশের মানুষের কাছে পপিসিডের পরিচিতি পায়। এর আগে পশুখাদ্যের আড়ালে এই পণ্য দেশে আনা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। এটি আফগানিস্থানে উৎপাদিত হয়। নৈ-পথে আফগান হয়ে পাকিস্তান ও ভারত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে পপিসিড।

এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত