মধ্যপ্রাচ্যসহ মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ সহ প্রায় ৬০ গ্রামে উদযাপিত হল ঈদুল ফিতর।
শুক্রবার (২০ মার্চ ) দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রায় ৬০ গ্রামে মুসলমানদের বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান পবিত্র ঈদুল ফিতর পালন করা হয়। বাংলাদেশে আগামীকাল ২১ মার্চ (শনিবার) পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
চট্টগ্রামের পটিয়া, চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী, চন্দনাইশ, আনোয়ারা উপজেলার প্রায় ৬০ গ্রামের মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করছেন। বিগত ১৭ ফেব্রুয়ারি রাতে সেহেরি খেয়ে রোজা শুরু করেন তারা।
দক্ষিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা দীর্ঘ ২ শত ৫০ বছর পূর্ব থেকে সৌদি আরবের সময়ানুযায়ী একদিন আগে রোজা রেখে থাকেন।
মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও, বাহুলী ও ভেল্লাপাড়া,চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর, সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল, সোনাকানিয়া, গারাঙ্গিয়া ও গাটিয়াডাঙ্গা, লোহাগাড়া উপজেলার কলাউজান, বড়হাতিয়া, পুটিবিলা চরম্বা, চুনতি, বাঁশখালী উপজেলার জালিয়াপাড়া, ছনুয়া, মক্ষিরচর, চাম্বল, শেখেরখীল, ডোংরা, তৈলারদ্বীপ ও কালিপুর সহ ৬০ গ্রামের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ আজ ঈদ উদযাপন করেন।
এ ব্যাপারে মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারী চন্দনাইশ উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার মোহাম্মদ আলমগীর জানান, আমরা যেহেতু সৌদি আরবের দিনক্ষণ অনুসরণ করি, সে অনুযায়ী আজ ঈদুল ফিতর পালন করছি।
এছাড়াও চট্টগ্রামের হাটহাজারী, সন্দ্বীপ, ফটিকছড়ি, বান্দরবানের লামা, আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজার সদর, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়ার বেশ কয়েকটি গ্রামে মির্জাখীল দরবার শরিফের অনুসারী রয়েছেন তারাও শুক্রবার ঈদ উদযাপন করছেন।
মির্জাখীল দরবার অনুসারী মো. মছুদুর রহমান বলেন, প্রায় আড়াইশ বছর আগে সাতকানিয়া উপজেলার মির্জাখীল গ্রামে হযরত মাওলানা মোখলেছুর রহমান (রহ.) হানাফি মাজহাবের ফতোয়া অনুযায়ী পৃথিবীর যে কোনো দেশে চাঁদ দেখা গেলে রোজা, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহাসহ সব ধর্মীয় উৎসব পালন করার ফতোয়া দিয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মির্জাখীল দরবার শরীফের অনুসারীরা একই নিয়মে সব ধর্মীয় উৎসব পালন করে আসছেন। তাই সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আজ শুক্রবার ঈদুল ফিতর পালন করছি, আলহামদুলিল্লাহ।
চন্দনাইশ জাহাঁগিরীয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবারে সকাল ৯ ঘটিকায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এতে ঈমামতি করেন পীরজাদা সৈয়্যদ মাওলানা মোহাম্মদ আলী।
