মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের মধ্যকার চরম উত্তেজনায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সন্ধ্যার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো ‘নিশ্চিহ্ন’ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর জবাবে ইরান অনির্দিষ্টকালের জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়ে উঠেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, গ্রিনিচ মান সময় গতকাল রবিবার রাত ১০টায় বাজার খোলার পরপরই মার্কিন অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) মে মাসের সরবরাহের দাম ১ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে, যদিও পরে তা কিছুটা কমেছে।
একই সময়ে নর্থ সি ব্রেন্ট ক্রুড তেলের মে মাসের সরবরাহের দামও সমহারে বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১১৩ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তবে লেনদেন শুরুর ৪৫ মিনিটের মাথায় তা কিছুটা কমে ১১১ ডলারের আশপাশে থিতু হয়।
গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর আগের দিন ডব্লিউটিআই ও ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ছিল যথাক্রমে ব্যারেল প্রতি ৬৭ দশমিক ০২ এবং ৭২ দশমিক ৪৮ ডলার।
এই সপ্তাহের শেষে ট্রাম্প বলেছেন, সোমবার সন্ধ্যার মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া না হলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো "নিশ্চিহ্ন" করে দেবে। জবাবে ইরান বলেছে, ট্রাম্প যদি তার হুমকির বাস্তবায়ন করেন, তবে তারা হরমুজ প্রণালি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেবে এবং ধ্বংস হওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত তা আর খুলবে না। ইরান আরও জানিয়েছে যে, তারা ওই অঞ্চলে মার্কিন ও ইসরায়েলি জ্বালানি ও যোগাযোগ অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু বানাবে।
ইরানে চলমান যুদ্ধ, যা এখন চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে, তেলের সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এর প্রধান কারণ বিশ্বের ব্যস্ততম তেল পরিবহন পথ এই হরমুজ প্রণালিটি কার্যত বন্ধ থাকা।
