প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালক কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন। গতকাল মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ সময় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং অর্থ সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার উপস্থিত ছিলেন। পরে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার দপ্তরে পৃথক বৈঠক করেন কৃষ্ণা শ্রীনিবাসন।
বৈঠক শেষে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় সরকার সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার কারণে কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর রমজান এবং যুদ্ধ শুরু হয়েছে। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে কিন্তু জ্বালানি সংকট থাকা সত্ত্বেও এবার ঈদে পরিবহন সংকট হয়নি, পরিবহন ভাড়া বাড়েনি, মানুষ নির্বিঘেœ বাড়ি যেতে এবং ফিরতে পেরেছে। এবার রমজানে দ্রব্যমূল্যও স্থিতিশীল ছিল। এবার পোশাকশ্রমিকদের বেতন নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়নি। গার্মেন্ট ফ্যাক্টরি থেকে সঠিক সময়ে শ্রমিকদের বেতন দেওয়া হয়েছে; তাই কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে ঋণ কর্মসূচি চলছে এবং কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে আলাপ-আলোচনা চলছে। কর্মসূচির বিপরীতে যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো বাংলাদেশের অর্থনীতির পরিপ্রেক্ষিতে ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি বলেন, সব একসঙ্গে করা যাবে না, আমাদের মতো করে করব। এপ্রিল মাসে ওয়াশিংটনে আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে সব বিষয়ে আলোচনা হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর আগের অর্থনীতির খারাপ অবস্থা আমরা পেয়েছি। ব্যাংকিং সেক্টর, শেয়ারবাজার খারাপ অবস্থায় আছে এবং কর-জিডিপি হারও অনেক কম। অর্থনৈতিক সংস্কার এবং বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব সংকট উত্তরণ সম্ভব। আমরা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির যেমন ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড বিতরণ, কৃষিঋণ মওকুফ ইত্যাদি কাজ করছি। সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য একটার পর একটা পদক্ষেপ নিচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই অর্থনৈতিক কারণে অনেক উন্নয়ন প্রকল্প থমকে গেছে। এগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে একটা জায়গা নিয়ে যেতে হবে, এজন্য বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অর্থনীতিকে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য ডিরেগুলেশন রিফরমস, ব্যবসা সহজীকরণ, ব্যবসায়ের খরচ কমানো ইত্যাদি ব্যাপারে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, আগামী বাজেটেই এসবের প্রতিফলন থাকবে।
অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) চলমান অর্থায়ন ও নীতিগত আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেছেন, যে কোনো অর্থায়নসংক্রান্ত আলোচনা সবসময়ই নীতিগত আলোচনার সঙ্গে সম্পর্কিত। বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে সব দেশই অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বিশেষত যুদ্ধ পরিস্থিতি অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়।
কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন জানান, অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে তার এ বিষয়ে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং এ প্রক্রিয়া চলমান। বাংলাদেশ নতুন করে কোনো ঋণের অনুরোধ করেছে কি না, এমন প্রশ্নে তিনি সরাসরি কিছু না বললেও ইঙ্গিত দেন, অর্থায়ন ও নীতিগত আলোচনা একসঙ্গেই এগিয়ে চলছে।
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইএমএফের এ কর্মকর্তা বলেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে সব দেশই কমবেশি অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বিশেষ করে চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি ও এর ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করছে।
এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সরকার, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফ নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি কৌশলগত আলোচনা ও সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন কৃষ্ণ শ্রীনিবাসন।
