৩০০ ইউরো ঘুষ খাওয়া রেফারি ডেনমার্কের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

ম্যাচটি ডেনমার্কের জন্য ‘বাঁচা-মরার’ লড়াই। জিতলে টিকে থাকবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন, হারলে বিদায়। এমন এক সমীকরণের ম্যাচে রেফারির বাঁশি কার হাতে, তা নিয়ে ফুটবল বিশ্বে শুরু হয়েছে তোলপাড়। পার্কেন স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার রাতে উত্তর মেসিডোনিয়ার মুখোমুখি হবে ডেনমার্ক। আর এই হাইভোল্টেজ ম্যাচের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ৪৩ বছর বয়সী জার্মান রেফারি ফেলিক্স সোয়ায়ারকে, যার নামের সঙ্গে জড়িয়ে আছে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো অধ্যায়।

ঘটনাটি ২০০৫ সালের। তখন জার্মান ফুটবল ফেডারেশন (ডিএফবি) সোয়ায়ারকে ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল। অভিযোগ ছিল, তিনি রবার্ট হোয়জার নামক এক রেফারির সহকারী হিসেবে কাজ করার সময় ম্যাচ পাতানোর জন্য ৩০০ ইউরো ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। হোয়জারকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করা হলেও সোয়ায়ার নিজে ম্যাচ পাতানোর তথ্য ডিএফবি-কে জানিয়ে দেওয়ায় তার শাস্তি কিছুটা কম হয়।

আশ্চর্যের বিষয় হলো, দীর্ঘ ৯ বছর এই নিষেধাজ্ঞার খবর গোপন রাখা হয়েছিল। ২০১৪ সালে জার্মান পত্রিকা ‘ডি জেইট’ সেই চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস করলে ফুটবল অঙ্গনে বড় ধাক্কা লাগে। তবে সেখানেই থামেননি সোয়ায়ার। তাকে নিয়ে সবচেয়ে বড় বিতর্কটি তৈরি হয় ২০২১ সালে। বুন্দেসলিগায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের মধ্যকার ‘ক্লাসিকার’ ম্যাচে তার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

ম্যাচ শেষে বর্তমান রিয়াল মাদ্রিদ তারকা জুড বেলিংহাম ক্ষোভে ফেটে পড়ে বলেছিলেন, ‘জার্মানির সবচেয়ে বড় ম্যাচের দায়িত্ব আপনি এমন একজনকে দিয়েছেন যিনি আগে ম্যাচ ফিক্সিং করেছেন। আপনি তার কাছ থেকে আর কী আশা করেন?’ এই মন্তব্যের জন্য বেলিংহামকে সে সময় বড় অঙ্কের জরিমানাও গুনতে হয়েছিল।

এতকিছুর পরও মাত্র পাঁচ দিন আগেই ডেনমার্কের মাটিতে আরেকটি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন এই জার্মান রেফারি। ইউরোপা লিগে এফসি মিডউয়িল্যান্ড ও নটিংহ্যাম ফরেস্টের ম্যাচেও বাঁশি ছিল তার হাতে। তবে বিশ্বকাপের ভাগ্য নির্ধারণী ম্যাচে তার নিয়োগ ডেনিশ সমর্থকদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্বকাপ প্লে-অফের মতো স্পর্শকাতর ম্যাচে এমন বিতর্কিত অতীত থাকা কাউকে দায়িত্ব দেওয়া কতটা যৌক্তিক, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে উঠেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত