আকিজ ফুডের ৫০০ কোটি টাকার বন্ড অনুমোদন

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ১২:১১ এএম

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ১০০৪তম কমিশন সভায় আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের বন্ড ইস্যুর প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

গতকাল বুধবার কমিশনের সভাকক্ষে বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

জানা গেছে, জিরো-কুপন বন্ড হওয়ায়, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রায় ৩৮৮ কোটি টাকা সংগ্রহ করবে। এর সম্পূর্ণ অর্থ বিদ্যমান ঋণ পরিশোধে ব্যবহার করা হবে। বন্ডের মেয়াদ শেষে প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ৫০০ কোটি টাকা পরিশোধ করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

অনুমোদিত বন্ডটি ছয় মাস থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর মেয়াদি, জামানতবিহীন, অরূপান্তরযোগ্য, পূর্ণ পরিশোধযোগ্য শূন্য-সুদ বন্ড হিসেবে ইস্যু করা হবে।

বন্ডটি প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে ব্যাংক, ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা কোম্পানি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারী ও উচ্চ সম্পদশালী ব্যক্তিদের কাছে ব্যক্তিগত বরাদ্দের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।

বন্ডটির প্রতি ইউনিটের অভিহিত মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। এতে ট্রাস্টি হিসেবে সেনা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি ও তহবিল ব্যবস্থাপক হিসেবে নর্থ স্টার ইনভেস্টমেন্টস (বিডি) লিমিটেড দায়িত্ব পালন করবে।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ ২০০৬ সালে যাত্রা শুরু করে এবং বর্তমানে বাংলাদেশের পানীয় খাতে সর্বোচ্চ করদাতা।

তারা কার্বনেটেড সফট ড্রিংকস, মিনারেল পানি, ফলের জুস, স্ন্যাকস এবং ডেইরি পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য উৎপাদন করে। তাদের জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘মোজো’ (সবচেয়ে বেশি বিক্রীত কোলা ব্র্যান্ড), ‘ফ্রুটিকা’ (জনপ্রিয় জুস ব্র্যান্ড) এবং ‘স্পিড’ (মূল্য ও বিক্রির দিক থেকে শীর্ষ কার্বনেটেড পানীয় ব্র্যান্ড)। সূত্রমতে, গত পাঁচ বছরে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কোম্পানির ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

বাজারে ভালো অবস্থান থাকা সত্ত্বেও, আকিজ ফুড দীর্ঘমেয়াদি তহবিল সংগ্রহের জন্য এতদিন পুঁজিবাজারে আসেনি, কারণ এতদিন তারা ব্যাংকনির্ভর ছিল।

পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্টদের প্রচেষ্টরা পর মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসা সম্ভব হয়েছে।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তাদের মুনাফা ৪০০ কোটি টাকার বেশি এবং ২০২৫ সালের জুন শেষে অপারেটিং মুনাফা ২০০ কোটিরও বেশি হয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২০-২১ অর্থবছরে তাদের মুনাফা ছিল প্রায় ২০০ কোটি টাকা এবং অপারেটিং মুনাফা ছিল ৬০ কোটি টাকা।

প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, আকিজ ফুড তাদের পণ্য এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশসহ ৪৭টিরও বেশি দেশে রপ্তানি করে। এর মধ্যে রয়েছে মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত, সিঙ্গাপুর, ভারত, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ আফ্রিকা, সেনেগাল, সোমালিয়া ও কানাডা।

ফান্ড ব্যবস্থাপনা-সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, আকিজ ফুডের ব্যবসার পরিধি ও বাজার উপস্থিতি অত্যন্ত শক্তিশালী এবং এটি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে কোম্পানিটি এতদিন পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহে আগ্রহী ছিল না, কারণ তারা সহজেই ব্যাংকঋণ পেত। তবে পুঁজিবাজারকে আরও সক্রিয় করতে এ ধরনের কোম্পানিকে অন্তর্ভুক্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই বন্ডের মাধ্যমে কোম্পানিটি পুঁজিবাজারে প্রবেশ করছে এবং আশা করি ভবিষ্যতে তারা আইপিওর মাধ্যমে শেয়ার ছাড়বে, যা পুঁজিবাজারের জন্য ইতিবাচক হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত