টিকার লড়াইয়ে সর্বোচ্চ স্বীকৃতি পাচ্ছেন সেঁজুতিসহ তিনজন

আপডেট : ২৬ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫০ এএম

টিকার মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় বাংলাদেশের বিজ্ঞানী ড. সেঁজুতি সাহাসহ তিন বিজ্ঞানীকে ২০২৬ সালের সাবিন অ্যাওয়ার্ডসে সম্মানিত করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবিলায় যুগান্তকারী ভূমিকা এবং নতুন প্রজন্মের টিকা উদ্ভাবনে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জার্মানির অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজিকে দেওয়া হবে অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের চাইল্ড হেলথ রিসার্চ ফাউন্ডেশনের (সিএইচআরএফ) উপনির্বাহী পরিচালক ড. সেঁজুতি সাহা পাচ্ছেন ২০২৬ রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড। এই পুরস্কার টিকা উন্নয়ন ও স্বাস্থ্য খাতে অবদানের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়।

সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, আগামী ১২ মে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল একাডেমি অব সায়েন্সেস ভবনে এক অনুষ্ঠানে তিন বিজ্ঞানীর হাতে পদক তুলে দেওয়া হবে।

সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের তথ্য মতে, অধ্যাপক উগুর শাহিন ও অধ্যাপক ওজলেম ত্যুরেজি (যারা ব্যক্তিগত জীবনে জীবনসঙ্গী) ক্যানসার চিকিৎসার জন্য তৈরি এমআরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে রেকর্ড সময়ে কোভিড-১৯ টিকা উদ্ভাবন করেন। এই টিকা কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে।

বর্তমানে এই দম্পতি যক্ষ্মা, এইচআইভি ও ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে নতুন টিকা তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আফ্রিকায় টেকসই টিকা উৎপাদনব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগেও নেতৃত্ব দিচ্ছেন।

এক যৌথ বিবৃতিতে উগুর শাহিন ও ওজলেম ত্যুরেজি বলেন, ‘২০২৬ সালের সাবিন গোল্ড মেডেল পেয়ে আমরা গভীরভাবে সম্মানিত। বিজ্ঞানী অ্যালবার্ট সাবিনের দর্শন “বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার তখনই সার্থক, যখন তা মানুষের কাজে লাগে” আমাদের দীর্ঘদিনের অনুপ্রেরণা। আমরা বিশ্বাস করি, আধুনিক ওষুধ সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন যাদের, তাদের কাছেই পৌঁছে দেওয়া উচিত। এ পুরস্কার আমাদের দল ও অংশীদারদের যৌথ প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।’

তাদের বিষয়ে সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা অ্যামি ফিনান বলেন, ‘অধ্যাপক শাহিন ও ত্যুরেজি টিকার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছেন। গবেষণাগারের আবিষ্কারকে সাহসের সঙ্গে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর উদাহরণ তারা।’

সাবিন ভ্যাকসিন ইনস্টিটিউটের তথ্য বলছে, জিনতত্ত্বভিত্তিক বিশ্লেষণ (জিনোম সিকোয়েন্সিং) ব্যবহার করে বিশ্বের সবচেয়ে বড় টাইফয়েড টিকা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহায়তা করেছেন ড. সেঁজুতি সাহা। এই কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশে ২০২৫ সালের টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (টিসিভি) প্রোগ্রামে ইতিমধ্যে চার কোটিরও বেশি শিশু টিকা পেয়েছে, যা লাখো শিশুর জীবন রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ড. সেঁজুতি সাহা টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সরবরাহ করেছেন। তিনি দেশে উন্নত জিনোম গবেষণাগার গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন, যেখানে হাজার হাজার রোগজীবাণুর জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে; যা দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং ক্লেবসিয়েলা, আরএসভির মতো রোগের টিকা উদ্ভাবনে সহায়তা করছে। পাশাপাশি তিনি নতুন প্রজন্মের গবেষকদের নেতৃত্ব গড়ে তোলায়ও কাজ করছেন।

পুরস্কারপ্রাপ্তি প্রসঙ্গে ড. সেঁজুতি সাহা বলেন, ‘এ পুরস্কার আমার কাছে অত্যন্ত অর্থবহ। এটি বাংলাদেশের এক অসাধারণ কমিউনিটির বহু বছরের পরিশ্রমের ফল। এটি প্রমাণ করে, মানুষ যখন একসঙ্গে সমস্যা সমাধানের প্রতিজ্ঞা নেয়, তখন যেকোনো জায়গায় উন্নত বিজ্ঞানচর্চা সম্ভব।’

সেঁজুতির প্রসঙ্গে অ্যামি ফিনান বলেন, ‘সেঁজুতি সাহা নতুন প্রজন্মের বৈজ্ঞানিক নেতৃত্বের উজ্জ্বল উদাহরণ। তার কাজ শুধু গবেষণাগারে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় শক্তিশালী টিকানীতি তৈরিতে সহায়তা করছে।’

এর আগে ২০২২ সালে সেঁজুতি সাহা তার প্রতিভা ও কাজের স্বীকৃতি হিসেবে জায়গা পেয়েছিলেন বিশ্বের খ্যাতনামা বিজ্ঞান সাময়িকী ল্যানসেট প্রকাশিত বিশ্বের সেরা ১০ বিজ্ঞানীর প্রোফাইলেও।

১৯৯৩ সাল থেকে অ্যালবার্ট বি. সাবিন গোল্ড মেডেল এবং ২০২০ সাল থেকে দেওয়া হচ্ছে রাইজিং স্টার অ্যাওয়ার্ড।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত