প্রথমবারের মতো গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বারের মতো গতকাল তার গাড়ির স্ট্যান্ডে জাতীয় পতাকা সংযুক্ত করা হয়। মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে যাওয়া-আসার সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বহনকারী গাড়িতে পতাকা উড়তে দেখা যায়। পরে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস প্যারেড-২০২৬ অনুষ্ঠানেও জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর প্রধানমন্ত্রী স্মৃতিসৌধে উপস্থিত যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য ও আমন্ত্রিত অতিথিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। পরে স্মৃতিসৌধের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। এরপর সেখান থেকে শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
গত ১৮ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানিয়েছিলেন, দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের গাড়িতেই চলাফেরা করবেন। তিনি সরকারি গাড়ি ব্যবহার করবেন না। প্রধানমন্ত্রী নিজের গাড়ি, নিজের চালক ও নিজের ক্রয় করা জ্বালানি ব্যবহার করবেন। ঘোষণা অনুযায়ী তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি গাড়ি ব্যবহার করছেন না। রুমন জানান, যানজটের কথা বিবেচনা করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তার গাড়িবহরের সংখ্যা কমিয়ে ফেলা হয়েছে। এতদিন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের সংখ্যা ছিল ১৩/১৪টি। আজ সেটি কমিয়ে ৪টি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পতাকাবিহীন গাড়ি ব্যবহার করছেন। তবে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অথবা বিদেশি মেহমানদের সফর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িতে পতাকা থাকবে।
মেয়েকে নিয়ে স্টেডিয়ামে প্রধানমন্ত্রী : মহান স্বাধীনতা দিবসে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের উদ্যোগে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে স্টেডিয়ামে যান প্রধানমন্ত্রী। স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সাবেক খেলোয়াড়দের নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের উদ্যোগে বিশেষ প্রীতি ফুটবল ম্যাচের উদ্বোধন করেন তিনি। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন তার মেয়ে জাইমা রহমান। পরে তারা খেলা উপভোগ করেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী স্টেডিয়ামে এলে তাকে স্বাগত জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বাফুফে প্রতিনিধিরা।
প্রধানমন্ত্রী ও জাইমা রহমানের উপস্থিতিতে গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। পরে প্রধানমন্ত্রীকে তার নামসংবলিত জার্সি উপহার দেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। খেলা শেষে তিনি খেলোয়াড়দের মেডেল পরিয়ে দেন। এরপর তিনি সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল প্রতিটি খেলার নতুন নতুন খেলোয়ার তৈরি করা। ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। এ জন্য নতুন কুড়ির মতো নতুন কুড়ি খেলোয়াড় তৈরি করতে চাই। আমার প্রতিটি জেলা, উপজেলাসহ বিভিন্নপর্যায়ে খেলার প্রতিযোগিতা আয়োজন করতে চাই। বিদেশ থেকে যেন বেশি পুরস্কার ও সম্মান আনতে পারি সেজন্য ভালো খেলোয়াড় তৈরি করব। সেই পরিকল্পনা ও চেষ্টা আমাদের রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে আমরা সিদ্ধান্ত নিই ক্রীড়াজগৎটাকে দলমত নির্বিশেষে গড়ে তুলব। সেখান থেকে সরাসরি তিনি বঙ্গভবনে যান।
সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করতে চায় সরকার : দীর্ঘ ১৮ বছর পর রাজধানীর জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ শেষে সশস্ত্র বাহিনীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতকাল কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও সামরিক সক্ষমতার এক অনন্য প্রদর্শনীতে পরিণত হয়। এমন চমৎকার আয়োজনে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠান শেষে প্যারেড স্কয়ার ত্যাগের সময় উপস্থিত সশস্ত্র বাহিনী সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং বাহিনীকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার করেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামছুল ইসলাম, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
