রোনালদো-মদরিচের পথে জেকো, বিশ্বকাপ স্বপ্নপূরণে বাধা ইতালি

আপডেট : ২৯ মার্চ ২০২৬, ১২:২৮ পিএম
ফুটবল দুনিয়ায় একটা সময় ৩০ বছর পার হওয়া মানেই ছিল অবসরের ঘণ্টা বেজে যাওয়া। কিন্তু আধুনিক ডায়েট, উন্নত ট্রেইনিং আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে একদল ‘চিরতরুণ’ ফুটবলার এই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের দিকে তাকালে এখন কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বা লুকা মদ্রিচের নাম শোনা যায় না, সেখানে সগৌরবে উচ্চারিত হচ্ছে ৩৯ বছর বয়সী বসনিয়ান স্ট্রাইকার এডিন জেকো-র নামও।

 

৩৯ বছর বয়সেও এডিন জেকো বর্তমানে ফেনারবাচেতে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন। যেখানে অধিকাংশ ফুটবলার এই বয়সে কোচিং বা ধারাভাষ্য নিয়ে ভাবেন, সেখানে জেকো এখনো ইউরোপের শীর্ষ সারির লিগে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ কাঁপিয়ে দিচ্ছেন। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার এই কিংবদন্তি এখন স্বপ্ন দেখছেন তার ক্যারিয়ারের শেষ একটি বড় মঞ্চের। আর সেই মঞ্চটি যদি হয় ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ, তবে তিনি নাম লেখাবেন এক অনন্য ক্লাবে।

তবে জেকোর এই শেষ বিশ্বকাপ রাঙানোর পথে সবচেয়ে বড় দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। ইউরোপীয় অঞ্চলের প্লে-অফে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা পড়েছে পাথ বি-তে, যেখানে তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আজ্জুরিরা।

নিয়ম অনুযায়ী, পাথ চ্যাম্পিয়নরা সরাসরি বিশ্বকাপে জায়গা পাবে। ইতালি গত বিশ্বকাপ মিস করার পর এবার কোনোভাবেই পা হড়কাতে চাইবে না। ফলে জেকো ও তার দলকে যদি কোয়ালিফাই করতে হয়, তবে ইতালিকে হারাতে হবে ৩১ মার্চ।  বর্তমান ফুটবল বাস্তবতায় অত্যন্ত কঠিন একটি মিশন।

কেন জেকোর জন্য এই লড়াই বিশেষ?

ইএসপিএন-এর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে জেকোর দীর্ঘস্থায়িত্ব এবং ইতালির সাথে তার বিশেষ লড়াইয়ের কিছু দিক: পরিচিত প্রতিপক্ষ: জেকো ইতালিয়ান সিরি-আ লিগে (রোমা ও ইন্টার মিলানে) দীর্ঘদিন খেলেছেন। ইতালির রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা তার খেলার ধরণ খুব ভালো করেই জানেন, যা মাঠের লড়াইকে আরও কঠিন করে তুলবে। শারীরিক সক্ষমতা: জেকো এমন একজন প্রথাগত 'নম্বর নাইন', যিনি উচ্চতা এবং শক্তির মিশেলে এখনো ডি-বক্সের ভেতর ত্রাস সৃষ্টি করতে পারেন। নেতৃত্বের গুণ: বসনিয়া দলের জন্য তিনি কেবল একজন স্ট্রাইকার নন, তিনি একজন অভিভাবক। তার উপস্থিতি পুরো দলের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দেয়।

জেকোর বিশেষত্ব লাফিয়ে হেড করতে অন্যদের ছাড়িয়ে যান

২০২৬ বিশ্বকাপ: অভিজ্ঞদের মিলনমেলা?

২০২৬ বিশ্বকাপে যখন বাঁশি বাজবে, তখন রোনালদো এবং মদ্রিচ দুজনেরই বয়স হবে ৪০-এর ওপরে। জেকোও তখন ৩৯ পেরিয়ে ৪০-এর ঘরে পা দেবেন। যদি বসনিয়া কোয়ালিফাই করতে পারে এবং জেকো ফিট থাকেন, তবে আমরা ফুটবলের ইতিহাসের অন্যতম ‘বয়স্ক’ কিন্তু ‘কার্যকর’ একদল কিংবদন্তিকে একসাথে বিশ্বমঞ্চে দেখতে পাব।

এটি কেবল ফুটবলের লড়াই হবে না, এটি হবে তারুণ্যের গতির সাথে অভিজ্ঞতার মস্তিষ্কের এক মহাকাব্যিক লড়াই। জেকোর সামনে এখন দুটি পথ—হয় ইতালিকে স্তব্ধ করে দিয়ে সরাসরি টিকিট কাটা, অথবা প্লে-অফের অনিশ্চিত পথে হাঁটা। "বয়স কেবল একটি সংখ্যা যদি আপনার পায়ে গোল করার ক্ষুধা আর মনে জেতার নেশা থাকে।" — জেকোর ক্যারিয়ার যেন এই কথাটিই বারবার প্রমাণ করছে।

বসনিয়ান এই 'ডায়মন্ড' কি পারবেন আজ্জুরিদের রক্ষণ দুর্গ ভেঙে তার দেশকে উত্তর আমেরিকায় নিয়ে যেতে? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত