কুমিল্লায় বাস-ট্রেনের সংঘর্ষের তদন্ত প্রতিবেদন, যা জানা গেল

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০১:৩৭ এএম

কুমিল্লায় লেভেল ক্রসিংয়ে ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জন নিহতের ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।  

রবিবার (২৯ মার্চ) তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন। 

প্রতিবেদনে সড়ক বিভাগ এবং বাসের চালকের গাফিলতির কথা তুলে ধরা হয়েছে। তবে এক্ষেত্রে রেলওয়ের গাফিলতি সবচেয়ে বেশি বলে জানা গেছে। 

তদন্ত সূত্র জানায়, কুমিল্লার পদুয়ার বাজার লেভেল ক্রসিংয়ে ১২ জন নিহতের ঘটনায় পদুয়ার বাজারের চার গেটম্যান, বিজয়পুর লেভেল ক্রসিংয়ের দুই গেটম্যান, লালমাই রেলস্টেশন মাস্টার, দুজন লোকোমাস্টার, বাসের চালক ও সড়ক বিভাগের নির্মাণ কাজে অবহেলার চিত্র ফুটে উঠেছে। জেলা প্রশাসনের তদন্তে অন্তত ছয়টি অসঙ্গতি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ও বিভাগ দায়ী বলে প্রতীয়মান হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে মোট আটটি সুপারিশ করেছে কমিটি। ১১ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনটি জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। 

এর আগে, গত ২১ মার্চ রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে মোট ১২ জনের মৃত্যু হয়। এতে আহত হন ১৫ জন। এক ভিকটিম বাসযাত্রীর দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত তিন গেটম্যানকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব ও পুলিশ।

জেলা প্রশাসনের গঠিত তদন্ত কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন— বিআরটিএর সহকারী পরিচালক ফারুক আলম, ময়নামতি ক্রসিং হাইওয়ে থানার ওসি আবদুল মমিন, ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ইকবাল হোসেন, রেলওয়ের সহকারী পরিবহণ কর্মকর্তা আসিফ খান চৌধুরী।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) মোহাম্মদ জাফর সাদিক চৌধুরী বলেন, ট্রেনের সঙ্গে যাত্রীবাহী বাসের সংঘর্ষে ১২ জনের মৃত্যুর ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আমরা জেলা প্রশাসকের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছি। এতে পদে পদে রেলওয়ের গাফিলতির চিত্র ফুটে উঠেছে। একই সঙ্গে সড়ক বিভাগ এবং বাসের চালকের গাফিলতি লক্ষ্য করা গেছে। 

তিনি বলেন, কী কারণে দুর্ঘটনা হচ্ছে তদন্তে সেসব বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত