অ্যাটর্নি জেনারেল বললেন

অনৈতিক লেনদেনে জড়িত কিছু আইন কর্মকর্তা

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৭:৩২ এএম

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের কিছু আইন কর্মকর্তা ‘নোট’-বাণিজ্যের মাধ্যমে অনৈতিক লেনদেনে জড়িত বলে মন্তব্য করেছেন নবনিযুক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেছেন, ‘মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না। দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে নির্মোহভাবে কাজ করব।’ গত ২৫ মার্চ রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পেয়ে গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন রুহুল কুদ্দুস কাজল। এদিন তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আইনজীবীদের মধ্যে আমাদের অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস সম্পর্কে “নোট” বাণিজ্যের অভিযোগ আছে। এখানে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হবে। আমরা রাষ্ট্রকে প্রতিনিধিত্ব করছি। এই নোট-বাণিজ্যের অভিযোগে আমাদের অনেক আইন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে “পিক অ্যান্ড চুজ”র অভিযোগ আছে। তেমনি কিছু অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগ আছে এবং আমরা কিছু ব্যক্তিকে সন্দেহের তালিকায় রেখেছি, যারা এগুলোর মধ্যে সম্পৃক্ত।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার নিয়োগের পর থেকে কয়েকজনকে চিহ্নিত করা হয়েছে, কারা এই অনৈতিকতার সঙ্গে সম্পৃক্ত বা কারা সম্পৃক্ত হতে পারেন। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় থেকে তাদের শেষ বার্তা বা শোধরানোর সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে আমাদের অফিস যেন বাধা না হয়ে দাঁড়ায়।’

রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আমাদের সুপ্রিম কোর্টের সম্মান অনেকাংশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আমরা অনেকে মনে করি। তার অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই পেশার (আইনপেশা) যে সুমহান মর্যাদা বলে আমরা দাবি করি, সেটা আমাদের আচরণের কারণে বজায় রাখতে পারছি না। আমাদের লেখাপড়ার ঘাটতি, নীতিনৈতিকতা, সততার কারণে এগুলো আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়কে দলীয় প্রভাবমুক্ত রাখতে পারবেন কি না এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমি সাংবিধানিকভাবে নিয়োগপ্রাপ্ত অ্যাটর্নি জেনারেল। আমি একটা রাজনৈতিক দল, তার আদর্শিক অবস্থান আমার সবসময় ছিল। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে আমার কোনো রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে প্রভাবিত করবে না। আমি সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হয়েছি। আমি রাষ্ট্রের স্বার্থে, রাষ্ট্রের কল্যাণে, রাষ্ট্রের পক্ষে সবসময় কথা বলে যাব।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাষ্ট্রের পক্ষে সরকারের নীতিনৈতিকতার সঙ্গে, সততার সঙ্গে, কর্মনিষ্ঠার সঙ্গে, দেশপ্রেমের সঙ্গে, দেশের মানুষ জনগণ এবং রাষ্ট্রের স্বার্থে যা করা প্রয়োজন, আমি নির্মোহভাবে সেটা করে যাব ইনশাআল্লাহ।’

সুপ্রিম কোর্টের এজলাসে সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার সংকুচিত হওয়ার বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি সেদিনও ওনাকে (প্রধান বিচারপতি) বলেছিলাম। আমি মনে করি যে, প্রধান বিচারপতি অত্যন্ত বিচক্ষণ একজন ব্যক্তি। তার সঙ্গে আমার আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কথা হয়নি। আপনাদের (সাংবাদিকদের) এই কনসার্নটি আমি তার কাছে তুলে ধরব। তিনি (প্রধান বিচারপতি) এটা অত্যন্ত যৌক্তিকভাবে আপনাদের সহযোগিতা করবেন বলে আমি বিশ্বাস করি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত