ইরাকের এই যাত্রার শুরু হয়েছিল ৮৫০ দিন আগে, বসরা আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ইন্দোনেশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে। সেই থেকে শুরু হওয়া ২১ ম্যাচের দীর্ঘ পথচলার সফল সমাপ্তি হতে যাচ্ছে মেক্সিকোর মন্টেরিতে। বলিভিয়ার বিপক্ষে বুধবারের প্লে-অফ ম্যাচটি জিতলেই ৪০ বছর পর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফিরবে ‘লায়ন্স অফ মেসোপটেমিয়া’।
মাত্র ৩০ দিন আগেও ইরাকের এই স্বপ্ন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছিল। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ায় আকাশপথ ও দূতাবাসগুলো বন্ধ হয়ে যায়। কোচ গ্রাহাম আরনল্ড আটকে পড়েন আরব আমিরাতে। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিল যে, ইস্তাম্বুল হয়ে ২৫ ঘণ্টার সড়কপথে সফরের কথা ভাবা হচ্ছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ফিফার হস্তক্ষেপে জর্ডানের আম্মান থেকে একটি বিশেষ প্রাইভেট জেটের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সেই জেটে চড়তে বাগদাদ থেকে ১৫ ঘণ্টার এক ক্লান্তিকর বাস জার্নি করতে হয়েছে পুরো দলকে। সব মিলিয়ে ৪৩ ঘণ্টার দীর্ঘ সফর শেষে মন্টেরিতে পৌঁছায় ইরাকি দল।
মেক্সিকোর মাটিতে পা রাখার পর থেকেই অভাবনীয় সমর্থন পাচ্ছে ইরাক। স্থানীয় মেক্সিকান সমর্থকরা ইরাকি দলের অনুশীলনে ভিড় করছেন, শিশুরাও ইরাকের নামে স্লোগান দিচ্ছে। এই ভালোবাসার প্রতিদান দিতে ইরাকের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলো এখন স্প্যানিশ ভাষায় পোস্ট করছে। মন্টেরির এই স্থানীয় সমর্থন বলিভিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে ইরাকের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।
প্রবীণ ইরাকি সমর্থকদের কাছে মেক্সিকো মানেই আবেগ। ১৯৮৬ সালে মেক্সিকোর মাটিতেই নিজেদের প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ খেলেছিল ইরাক। বেলজিয়ামের বিপক্ষে প্রয়াত আহমেদ রাধির সেই ঐতিহাসিক গোলটি এখনো ইরাকি ফুটবলের শ্রেষ্ঠতম মুহূর্ত হয়ে আছে। এরপর ২০০৭ সালে এশিয়ান কাপ জয় করলেও বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে ফেরা হয়নি তাদের।
ইরাকের এই নতুন প্রজন্মের নায়ক হয়ে উঠেছেন তরুণ তুর্কি আলী জসিম। অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক বাছাইপর্বে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ গোলগুলোই ইরাককে সাফল্যের পথে নিয়ে এসেছে। এবার সিনিয়র দলের হয়ে বিশ্বমঞ্চে নামার পালা তাঁর।
বলিভিয়াকে হারাতে পারলে বিশ্বকাপে ফ্রান্স, নরওয়ে ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলগুলোর গ্রুপে পড়বে ইরাক। তবে যুদ্ধের ক্ষত কাটিয়ে আসা একটি দেশের জন্য এই জয় কেবল ফুটবলীয় সাফল্য নয়, বরং জাতীয় ঐক্যের এক বিশাল প্রতীক হয়ে দাঁড়াবে।