প্রিমিয়ার লিগের ৭৫ শতাংশ সমর্থক ভিএআর-এর বিপক্ষে

আপডেট : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৬ এএম

ফুটবল মাঠে নিখুঁত সিদ্ধান্ত নেওয়ার লক্ষ্যে ‘ভিএআর’ বা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি প্রযুক্তির প্রবর্তন করা হয়েছিল। তবে প্রিমিয়ার লিগের দর্শকদের অভিজ্ঞতায় এটি স্বস্তির চেয়ে বিরক্তিই বেশি বাড়িয়েছে। এফএসএর করা এক জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৮ হাজার সমর্থকের মধ্যে তিন-চতুর্থাংশই এই প্রযুক্তির অপসারণ চেয়েছেন।

জরিপের ফলাফল বলছে, ৯০ শতাংশ সমর্থক মনে করেন ভিএআর আসার পর স্টেডিয়ামে ম্যাচ দেখার অভিজ্ঞতা আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে গোল উদযাপনের ক্ষেত্রে। ৯১ শতাংশ সমর্থকের মতে, গোলের পর তাৎক্ষণিক বুনো উল্লাসের যে স্বতঃস্ফূর্ততা ছিল, ভিএআর-এর দীর্ঘ পর্যালোচনার কারণে তা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এমনকি টেলিভিশনে খেলা দেখার আনন্দও ৯৪ শতাংশ দর্শকের কাছে কমে গেছে।

এফএসএর প্রিমিয়ার লিগ নেটওয়ার্ক ম্যানেজার টমাস কনক্যানন বলেন, "ফলাফল স্পষ্ট—অধিকাংশ সমর্থক ভিএআর চান না। সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে এটি ফুটবলের আসল সৌন্দর্য কেড়ে নিচ্ছে। সমর্থকরা সময়ের অপচয় এবং বারবার খেলা থেমে যাওয়া নিয়ে বিরক্ত।"

সমর্থকদের এমন নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার বিপরীতে প্রিমিয়ার লিগ কর্তৃপক্ষ বলছে ভিন্ন কথা। তাদের নিজস্ব গবেষণায় দেখা গেছে, সমর্থকরা ভিএআর একদম বাদ দেওয়ার চেয়ে এর ব্যবহারের ধরনে উন্নতি চান। লিগ কর্তৃপক্ষের মতে, ভিএআর ব্যবহারের ফলে রেফারিংয়ের ভুলের হার কমেছে এবং সিদ্ধান্তের নির্ভুলতা ৯৬-৯৭ শতাংশে পৌঁছেছে। এছাড়া গত দুই মৌসুমে ভিএআর-এর জন্য সময় অপচয়ের হারও ২৫ শতাংশ কমেছে।

আপাতত প্রিমিয়ার লিগ থেকে ভিএআর উঠে যাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ২০২৪ সালে ২০টি ক্লাবের মধ্যে ১৯টিই ভিএআর রাখার পক্ষে ভোট দিয়েছিল; একমাত্র উলভারহ্যাম্পটন এর বিপক্ষে ছিল। নিয়ম অনুযায়ী, এটি বাতিল করতে হলে অন্তত ১৪টি ক্লাবের সমর্থন প্রয়োজন। সম্প্রতি অ্যাস্টন ভিলা বনাম নিউক্যাসল ইউনাইটেডের একটি এফএ কাপ ম্যাচে (যেখানে ভিএআর ছিল না) তিনটি বড় ভুল হওয়ায় প্রযুক্তিটির প্রয়োজনীয়তা আবারও আলোচনায় এসেছে।

তবে সমর্থকদের দাবি, ফুটবল কেবল পরিসংখ্যানের খেলা নয়, এটি আবেগেরও। তাই বিপুল সংখ্যক সমর্থকের এই অসন্তোষকে এড়িয়ে না যাওয়ার জন্য লিগ কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এফএসএ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত