হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর সিনিয়র পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধ্যাপক কামরুন নাহার হারুন। এ পদে দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি কেবল প্রতিষ্ঠানের কাজে পেশাদারিত্বের উন্নয়নই ঘটাননি; একই সঙ্গে নতুন নতুন পণ্য উদ্ভাবন ও বাজারজাতকরণ এবং প্রথম দেশের সীমানা পেরিয়ে এশিয়া, ইউরোপ এবং আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে বাজার বিস্তৃত করার অভাবনীয় সফলতা দেখাতে সক্ষম হন। এরই স্বীকৃতি হিসেবে এশিয়ার গৌরবজনক সম্মাননা ‘হেলথকেয়ার এশিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ গ্রহণ করেছেন। এটা শুধু হামদর্দ-এর জন্যই নয় পুরো ইউনানি আয়ুর্বেদিক সেক্টরের জন্য বড় অর্জন। সর্বোপরি দেশের জন্য দারুণ প্রাপ্তি।
অধ্যাপক কামরুন নাহান হারুন একাধারে একজন শিক্ষক ও গবেষক। বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ইউনানি আয়ুর্বেদিক খাতে অনেকগুলো গবেষণা ও একাডেমিক গ্রন্থ প্রণয়ন করেন। তিনি চট্টগ্রাম মেডিকেল বিশ^বিদ্যালয়ের অধীনে এ বিষয়ে একমাত্র অধ্যাপক। লক্ষ্মীপুর জেলাধীন রওশন জাহান ইস্টার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের শিক্ষক ও অধ্যক্ষ হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। ব্যক্তি জীবনে বাংলাদেশ হামদর্দ-এর প্রতিষ্ঠাতা, কিংবদন্তি উদ্যোক্তা ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়ার সহধর্মিণী। খুব কাছ থেকে বিভিন্ন সংগ্রাম ও চড়াই-উতরাই প্রত্যক্ষ করেছেন। তার এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয় উঠে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলাপচারিতা তুলে ধরা হলো।
প্রশ্ন : ‘হেলথকেয়ার এশিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ প্রাপ্তিতে আপনাকে এবং হামদর্দ বাংলাদেশ পরিবারকে অভিনন্দন জানাই। আপনার অনুভূতি জানতে চাই।
কামরুন নাহার হারুন : এটা একটা অসাধারণ অনুভূতি। আমরা যে চেষ্টা করি, লড়াই করি এবং চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সফলতা লাভ করি। এটার স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে একদিকে তৃপ্তির, অন্যদিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা।
প্রশ্ন: দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ মার্কেটিং দায়িত্বে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে?
কামরুন নাহার হারুন : প্রথমত, বলতে হয় একাডেমিক ক্যারিয়ার, একজন কর্মজীবী নারী ও নিত্যনতুন বিপণন কৌশল বিষয়ে আমার কাজের ক্ষেত্র সহজ ছিল না। কিন্তু আমি বিশ^াস করি একটা কর্মীবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি করে টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে অনেক অসাধ্য সাধন করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পেশাগত দক্ষতা ও কারিগরি জ্ঞান সম্পন্ন পেশাদার ব্যক্তিদের যথাযথ মূল্যায়নে উদারতা থাকতে হবে। ইনশাআল্লাহ আমি সেই আস্থার জায়গা তৈরি করেই কর্মীদের দক্ষতাগুলো কাজে লাগাতে প্রেরণা জুগিয়েছি এবং কৃতিত্ব দিয়েছি। ফলে সব ধরনের প্রতিকূলতা জয় করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। তাই এটাকে আমি সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল বলে মনে করি।
প্রশ্ন : আপনার এত মনোবলের উৎস কী?
কামরুন নাহার হারুন : সত্যিকার অর্থে আমি বাংলাদেশ হামদর্দ-এর প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়াকে একটু স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র, তার বিশাল কর্মযজ্ঞে সহযোগী হতে চেয়েছি। যে মানুষ তার জীবন যৌবন এ প্রতিষ্ঠানের জন্য উৎসর্গ করেছেন এবং একটি দেউলিয়া প্রতিষ্ঠানকে ধীরে ধীরে সম্মানের চূড়ান্ত শিখরে নিয়ে আসেন। আজ দেশের স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে হামদর্দ নেতৃত্বের আসনে এসেছে তারই হাত ধরে। এটা আমার শক্তি, মনোবল এবং প্রেরণার উৎস।
প্রশ্ন: ইউনানি আয়ুর্বেদিক শিক্ষা ক্ষেত্রে আমরা হামদর্দ-এর কথা শুনি, পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষা ও উচ্চশিক্ষায় হামদর্দ-এর অবদান লক্ষ করেছি।
কামরুন নাহার হারুন : ঠিকই বলছেন। ইউনানি আয়ুর্বেদিক শিক্ষায় ডিগ্রি পর্যায়ে ৪টি প্রতিষ্ঠানের মাত্র ১টি সরকারি। বাকি সবগুলো প্রতিষ্ঠান ড. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত। হামদর্দ পাবলিক কলেজ অল্প সময়ে অসাধারণ সফলতার দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে। হামদর্দ বিশ^বিদ্যালয়ে ইউনানি আয়ুর্বেদিক ফ্যাকাল্টি রয়েছে। সেখানে মনোরম নৈসর্গিক পরিবেশে বিজ্ঞান অনুষদ, কলা অনুষদ, সমাজবিজ্ঞান অনুষদের অধীনে বিভিন্ন বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি গ্রহণ করা যায়।
প্রশ্ন: আপনাদের নতুন পণ্য আমরূপালি নিয়ে যদি কিছু বলেন।
কামরুন নাহার হারুন : বাংলাদেশে প্রথম আমরাই আসল আমের পাল্প দিয়ে আমরূপালি ফ্রুট সিরাপ উৎপাদন ও বাজারজাত করেছি এবং অভাবনীয় সফলতা পেয়েছি। যারা একবার এটি ক্রয় করেছেন বা খেয়েছেন তিনি আবার তা নিতে উদ্বুদ্ধ হয়েছেন শুধু গুণগত মানের কারণে। এতে আপনি আসল আমের স্বাদ গ্রহণ করতে পারছেন বছরব্যাপী।
প্রশ্ন: বিশ^বাজারে এখন হামদর্দ বাংলাদেশের পণ্যসামগ্রী যাচ্ছে আপনার প্রচেষ্টার ফলে, এর লক্ষমাত্রা কী?
কামরুন নাহার হারুন : হামদর্দের যুগান্তকারী উন্নয়নের মূলমন্ত্র হতে পারে এ উদ্যোগ। এর মাধ্যমে আমাদের প্রতিটি কর্মীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পথ সুগম হয়েছে বলে আমি মনে করি। এটি দেশকেও সমৃদ্ধ করবে বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বাড়ানোর মাধ্যমে। যা কোনো সীমিত উদ্যোগ নয় এর সম্ভাবনা অবারিত ও ব্যাপক।
স্বাস্থ্য খাতে অনন্য অবদান এবং সাম্প্রতিক সময়ে আমরূপালি ফ্রুট সিরাপসহ বেশ কয়েকটি নতুন পণ্য বাজারজাতকরণের মাধ্যমে অনন্য নজির স্থাপন এবং এশিয়া, ইউরোপ ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ন্যাচারাল মেডিসিন ও পণ্য রপ্তানির নতুন দিগন্ত সূচনা করার বিরল কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে হামদর্দ ল্যাবরেটরিজ (ওয়াক্ফ) বাংলাদেশ-এর সিনিয়র পরিচালক মার্কেটিং অ্যান্ড সেলস এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধ্যাপক কামরুন নাহান হারুন সম্প্রতি ‘হেলথকেয়ার এশিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০২৬’ গ্রহণ করেছেন। সিঙ্গাপুরের মেরিণা বে কনভেনশন সেন্টারে দেশি-বিদেশি ডেলিগেটদের উপস্থিতিতে ২৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ পদক প্রদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চিফ মোতাওয়াল্লি ড. হাকীম মো. ইউছুফ হারুন ভূঁইয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
