এক-এগারো সরকারের অন্যতম কুশীলব সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা রিমান্ডে ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে উত্তর দিচ্ছেন। তাদের উত্তরে সত্যতার হদিস মিলছে না। তবে ওয়ান-ইলেভেনের সঙ্গে জড়িত কিছু ব্যক্তির নাম পাওয়া গেছে; তাদের প্রোফাইল খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গতকাল সোমবার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এক-এগারো সরকারের আরেক কুশীলব ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। পরে তাকে মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার মামলায় ছয় দিনের রিমান্ড দিয়েছে আদালত। গতকাল বিকেলে ঢাকা মেট্রোপলিটান ম্যাজিস্ট্রেস্ট আদালত রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে গত ২৫ মার্চ রাতে মিরপুরের ডিওএইচএস থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদকে জুলাই হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়। গত ২৩ মার্চ রাতে মানবপাচার মামলায় লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা দুজনই রিমান্ডে রয়েছেন। রিমান্ডের তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানান তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা।
সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তার রিমান্ডের বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিজ্ঞাসাবাদ চলমান রয়েছে। তারা ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে তথ্য দিচ্ছেন। কিছু তথ্য পাওয়া গেলেও তার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে না। ওয়ান-ইলেভেনের সময়ের কিছু ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছেন। ওয়ান-ইলেভেন ও মামলার বিষয়ে তদন্ত করছি। রিমান্ড শেষে যদি ফের রিমান্ডের প্রয়োজন হয় তাহলে তারও আবেদন করা হবে বলে।’
তদন্ত-সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দেশ রূপান্তরকে বলে, মাসুদ উদ্দিনকে ফের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। শেখ মামুন খালেদকেও আবার রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে। রিমান্ডে মুখ খুলছেন না সেনা কর্মকর্তারা। তাদের কাছ থেকে যেটুকু তথ্য পাওয়া যাচ্ছে তারও সত্যতা মিলছে না। মাসুদ উদ্দিন কিছু তথ্য দিলেও মামুন খালেদ তথ্য দিচ্ছেন না; বলছেন, দায়িত্বের বলি হয়েছেন।
এক-এগারোর আরেক কারিগর আফজাল গ্রেপ্তার : এক-এগারো সরকারের আরেক কুশীলব ডিজিএফআইয়ের সাবেক পরিচালক সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গতকাল সোমবার ভোরে মিরপুর ডিওএইচএসের একটি বাসা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর মিরপুর থানার দেলোয়ার হোসেনকে হত্যার মামলায় তাকে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
গতকাল বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের উপ-পরিদর্শক কফিল উদ্দিনের রিমান্ড আবেদনে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিব উল্লাহ পিয়াসের আদালত আসামিকে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেয় বলে জানিয়েছেন আদালত প্রতিবেদক।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার আফজাল নাছের ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এক-এগারোর সরকারের সময় নির্যাতনের অন্যতম হোতা ছিলেন তিনি। যে স্থানে তারেক রহমানকে নির্যাতন করা হয় সেখানে সশরীরে উপস্থিত ছিলেন আফজাল নাছের। সূত্র বলেছে, ডিজিএফআইয়ের এই সাবেক পরিচালক ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল আফজাল নাছের ২০০৯ সালের ৫ নভেম্বর বরখাস্ত হন। তার বাড়ি নোয়াখালীর সেনবাগে। তিনি সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই।
মুখে কুলুপ মামুনের, মাসুদের তথ্যের সত্যতা মিলছে না : তদন্ত-সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ‘এক-এগারো সরকারের অন্যতম কুশীলব শেখ মামুন খালেদ ও মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী দুজনেই জিজ্ঞাসাবাদে সহজে মুখ খুলছেন না। দুই-একটি প্রশ্নের উত্তর পেলেও তার সত্যতা পাওয়া যাচ্ছে না। শেখ মামুন প্রশ্ন এড়িয়ে যাচ্ছেন। তার একই কথা দায়িত্বের বলি হয়েছেন তিনি। সামরিক বাহিনীর শিক্ষা কোরে চাকরি করলেও ডিজিএফআইয়ের প্রধান হয়ে বিপাকে পড়তে হয়েছে। চাকরি থেকে অবসরে গেলেও সরকারি অর্থায়নে একটি বিশ^বিদ্যালয় তৈরি করতে চেয়েছেন বলেও জানা গেছে। মাসুদ উদ্দিন জিজ্ঞাসাবাদে কিছু তথ্য দিলেও তার সত্যতা মিলছে না। এক-এগারোর কুশীলবদের তালিকার বিষয়ে জানতে চাইলে সূত্র বলেছে, ‘ডিবির কাছে এমন কোনো তথ্য নেই। ডিবির পাশাপাশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে। তাদের কাছে হয়তো কিছু তথ্য থাকতে পারে।
