৫৪ বছর পর চাঁদে যাচ্ছে মানুষ

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:১৯ এএম

সময়টা ১৯৭২ সালের ১২ ডিসেম্বর, যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার অ্যাপোলো অভিযানের ১১তম ও সর্বশেষ নভোযান অ্যাপোলো ১৭ নভোচারীসহ চাঁদের বুকে অবতরণ করে। তাদের মধ্যে ইউজিন কারনান ছিলেন শেষ মানুষ, যিনি চাঁদের বুকে হেঁটে বেড়ানোর সুযোগ পান। এর ৫৩ বছর পর আবারও চাঁদে মনুষ্যবাহী মিশন পরিচালনা করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (নাসা)। ‘আর্টেমিস-টু’ নামের এই অভিযানের পেছনে বেশ কয়েক বছরের প্রস্তুতি রয়েছে নাসার। বিভিন্ন বাধা পেরিয়ে ১ এপ্রিল স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় আজ ভোর ৪টা ২৪ মিনিট) ফ্লোরিডা থেকে এই অভিযান শুরু হতে যাচ্ছে। এই অভিযানের চার নভোচারী হলেন- যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডার জেরেমি হ্যানসেন।

প্রায় ১০ দিনের অভিযানের বিষয়ে নাসা বলছে, এই মিশন নভোচারীদের মহাকাশের এমন এক দূরত্বে নিয়ে যাবে, যেখানে আগে কেউ কখনো যায়নি। তবে আর্টেমিস-২ সরাসরি চাঁদের বুকে নামবে না। এটি মূলত ২০২৭ সালে (বা বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২৮ সালে) ‘আর্টেমিস-৩’ মিশনের মাধ্যমে মানুষের চাঁদে অবতরণের পথ তৈরি করে দেবে। কানাডিয়ান নভোচারী জেরেমি হ্যানসেনের আশা, এই মিশন বিশ্বকে নতুন করে জাগাবে। চাঁদের উদ্দেশে ছোটার আগে মিশনের প্রথম দুদিন মহাকাশযানটি পৃথিবীর কক্ষপথেই ঘুরবে। পৃথিবী থেকে ৪০ হাজার মাইল উঁচুতে উঠে তারা যাচাই-বাছাই করবেন; যা চাঁদের দূরত্বের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। পাশাপাশি এটা নাসার নতুন রকেট ‘এসএলএস’-এরও প্রথম অভিযান। কমলা-সাদা রঙে রাঙানো রকেটটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে এটি আগামী কয়েক বছরে বেশ কয়েকবার চাঁদে আসা-যাওয়া করতে পারে।

আর্টেমিস প্রকল্পের চূড়ান্ত লক্ষ্য একটি স্থায়ী মহাকাশ ঘাঁটি তৈরি করা। সেখান থেকে মহাকাশের আরও দূরবর্তী অংশে অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হবে। নভোচারী কচ সংবাদ সম্মেলনে জানান, চাঁদে অভিযানের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে অদূর ভবিষ্যতে মঙ্গল গ্রহেও অভিযান পরিচালনা করা হবে। অতীতে সেখানে প্রাণের অস্তিত্ব ছিল এমন প্রমাণও আমরা খুঁজে পেতে পারি, যোগ করেন তিনি। নাসার সহযোগী প্রশাসক অমিত ক্ষত্রিয় সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, মহাকাশযানটি এখন প্রস্তুত। সব প্রক্রিয়া প্রস্তুত আছে। ক্রুরাও প্রস্তুত। গত মঙ্গলবার নাসার কর্মকর্তারা নিশ্চয়তা দেন, সব ধরনের প্রকৌশল কার্যক্রম ও চূড়ান্ত প্রস্তুতি ঠিকভাবে আগাচ্ছে; আবহাওয়ার পূর্বাভাসও ইতিবাচক। নভোচারীরা যে মহাকাশযানে চড়ে যাবেন, তার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ তৈরি হয়েছে জার্মানির ব্রেমেনে। এটি হলো ‘ইউরোপীয় সার্ভিস মডিউল’, যা ইউরোপীয় স্পেস এজেন্সির পক্ষ থেকে এয়ারবাস তৈরি করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত