শিশুদের হাম প্রতিরোধে সচেতনতা জরুরি

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:২৮ এএম

বর্তমান সময়ে দেশে শিশুদের মধ্যে হাম রোগের প্রকোপ আবারও বাড়তে দেখা যাচ্ছে। একসময় প্রায় নিয়ন্ত্রণে থাকলেও, টিকাদানে অনিয়ম, অসচেতনতা এবং জনসমাগম বৃদ্ধির কারণে এই সংক্রামক রোগটি নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হাম কী ও কেন হয়

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত শ্বাসনালির মাধ্যমে ছড়ায়। আক্রান্ত ব্যক্তি হাঁচি-কাশির মাধ্যমে সহজেই অন্যদের মধ্যে ভাইরাস ছড়িয়ে দেয়। শিশুদের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকায় তারা বেশি ঝুঁকিতে থাকে।

লক্ষণ

হামের সাধারণ লক্ষণগুলো হলো

জ্বর (১০ থেকে ১-১০৪ক্কঋ পর্যন্ত হতে পারে)

নাক দিয়ে পানি পড়া

চোখ লাল হওয়া ও পানি পড়া

শুকনো কাশি

মুখের ভেতরে সাদা দাগ (কড়ঢ়ষরশ ংঢ়ড়ঃং)

৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে শরীরে লালচে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়া

কারা বেশি ঝুঁকিতে?

৫ বছরের কম বয়সী শিশু

অপুষ্টিতে ভোগা শিশু

যারা নিয়মিত টিকা পায়নি

দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন শিশু

প্রতিরোধই সর্বোত্তম উপায়

হাম প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো টিকাদান।

১. জাতীয় টিকাদান কর্মসূচি অনুযায়ী শিশুকে নির্দিষ্ট সময় অনুযায়ী হাম/রুবেলা টিকা দিতে হবে

২.  আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা

৩. হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলা

৪.  শিশুদের পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করা

চিকিৎসা ও যত্ন

হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল চিকিৎসা নেই, তবে সঠিক যতœ ও চিকিৎসার মাধ্যমে জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

১. জ্বর কমানোর জন্য প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে

২.  পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার দিতে হবে

৩.  চোখ ও ত্বকের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে

৪.  চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন অ দেওয়া যেতে পারে

৫.  শিশুকে বিশ্রামে রাখতে হবে

৬. অ্যান্টিবায়োটিক শুধুমাত্র জটিল সংক্রমণ হলে ব্যবহার করতে হবে (ডাক্তারের পরামর্শে)।

কখন দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাবেন?

নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে

শ্বাসকষ্ট

খিঁচুনি

শিশুর অস্বাভাবিক নিস্তেজতা

খাওয়াতে না পারা

তীব্র ডায়রিয়া বা ডিহাইড্রেশন

সচেতনতা জরুরি

হাম একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হলেও অবহেলার কারণে এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। তাই টিকা নিতে দেরি করবেন না। অসুস্থ শিশুকে আলাদা রাখুন। গুজব নয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করুন। শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যতের জন্য হাম প্রতিরোধে আমাদের সম্মিলিত সচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সময়মতো টিকাদান, সঠিক যতœ ও দ্রুত চিকিৎসা এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে পারলেই আমরা এই রোগের প্রকোপ অনেকাংশে কমিয়ে আনতে পারি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত