নীলফামারীতে ঝড়ে দুই শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত

আপডেট : ০২ এপ্রিল ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

নীলফামারীর জলঢাকা ও কিশোরীগঞ্জের ৪টি ইউনিয়নে গত মঙ্গলবার মধ্যরাতে ঝড়ের তা-বে দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ঝড়ে বৈদ্যুতিক তার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারণে কিশোরীগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত গতকাল বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টায় এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন ছিল।   

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার গভীর রাতে বৃষ্টির সঙ্গে ঝড় শুরু হলে জলঢাকা উপজেলার ৩টি ইউনিয়ন ও কিশোরীগঞ্জ উপজেলার ১টি ইউনিয়নের দুই শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত ও ৩৮ হেক্টর জমির ভুট্টার ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিশোরীগঞ্জ উপজেলার পুটিমারী ইউনিয়নের ৪টি ওয়ার্ডের ১শ ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়। হেলে পড়েছে প্রায় ২শ ঘরবাড়ি। এছাড়া ২শ হেক্টর জমির ভুট্টাগাছসহ অসংখ্য গাছপালা হেলে পড়েছে।

স্থানীয় রবিউল ইসলাম জানান, গভীর রাতে হঠাৎ ঝড় ও বৃষ্টি শুরু হলে ঘরের চাল উড়ে যায় ও গাছ ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে। এতে ফসলেরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

পুটিমারী ইউপির চেয়ারম্যান আবু সায়েম জানান, ইউনিয়নের ১, ৪, ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় শতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। এছাড়া হেলে পড়েছে অসংখ্যা ঘরবাড়ি। প্রায় ২শ হেক্টর ভুট্টা ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্যরা জানান, ঝড়ে বিধ্বস্ত হওয়াসহ অসংখ্য ঘরবাড়ি হেলে পড়েছে। অনেক ঘরবাড়ির টিন উড়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার লোকমান আলম জানান, উপজেলায় ১৫০ হেক্টর জমির ভুট্টাগাছ হেলে পড়েছে। তবে ১২ হেক্টর জমির ভুট্টা নষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে। অন্যান্য ইউনিয়নেও ভুট্টাক্ষেতের গাছ হেলে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান জানান, প্রায় ৪০টি পরিবারের ৮০টি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত ঘড়বাড়ির তালিকা ও ক্ষতি নিরূপণে মাঠে কাজ করা হচ্ছে।

অপরদিকে জলঢাকা উপজেলায় একই সময়ে খুটামারা, ধর্মপাল ও গোলনা ইউনয়নে ঝড়ের তা-বে শতাধিক বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়। ঝড়ে ২৬ হেক্টর জমির ভুট্টা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, ঝড়ে শুধুমাত্র ভুট্টা ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হেলে পড়া ভুট্টার তেমন ক্ষতি হবে না।

জলঢাকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা  নাহিদুজ্জামান জানান, প্রায় শতাধিক বাড়িঘর ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে। আগামী একদিনে আমাদের হাতে চূড়ান্ত রিপোর্ট আসবে।

ঝড়ের কবলে পড়ে বৈদ্যুতিক তার ও খুঁটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে কিশোরীগঞ্জ নেসকোর আবাসিক প্রকৌশলী শামসুল আরেফিন জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে যাওয়ার কারণে মোজাম্মেল অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশন থেকে পর পর ৪টি পিলারের বৈদ্যুতিক তার চোরেরা চুরি করে নিয়ে যায়। এ ছাড়া প্রায় ১০টি পিলার হেলে পড়েছে। এ কারণে কিশোরীগঞ্জ নেসকো কার্যালয় থেকে জলঢাকার টেংগনমারী এলাকা পর্যন্ত বুধবার বিকেল পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত