সামগ্রিক সংস্কারের বিরোধিতা করছে সরকার : শিশির মনির

আপডেট : ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ এএম

জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য এবং সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, বর্তমান সরকার জনরায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পরিবর্তে নানাবিধ দ্বিচারিতামূলক আইনি ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। তারা শুধু ‘জুলাই সনদ’-এর বিরোধিতাই নয়, তাদের সামগ্রিক কর্মকা-ের মধ্য দিয়ে তারা মূলত সংস্কারের বিপক্ষে একটি শক্তিশালী অবস্থান নিয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। ‘গণভোটের আলোকে জনরায় বাস্তবায়নে গড়িমসি : সরকারের দায় ও জবাবদিহিতা’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান, আলোকচিত্রশিল্পী ও সমাজকর্মী শহীদুল আলম, পাবনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব তাহসিন রিয়াজ, শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (ডাকসু) ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এসএম ফরহাদ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জকসু) ভিপি রিয়াজুল ইসলাম এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাকসু) জিএস মাজহারুল ইসলাম, জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান প্রমুখ।

শিশির মনির বলেন, ‘বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা এমনভাবে এককেন্দ্রিক করা হয়েছে যে, যদি তা বিকেন্দ্রীকরণ করা না যায়, তবে যেই-ই ক্ষমতায় আসুক, সে বাধ্য হবে স্বৈরতান্ত্রিক মনোভাব নিয়ে দেশ পরিচালনা করতে। এ কারণেই “জুলাই সনদ”-এর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা, পাশাপাশি দেশের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনভাবে কাজ করার লক্ষ্যে যে সংস্কার প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাস্তবায়ন না হলে, জুলাই অভ্যুত্থানের পরও আমরা কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন করতে পারব না। বরং আবারও একক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে এবং দেশ পুনরায় আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘গণভোট বা জনমতের ভিত্তিতে গৃহীত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা। এর ব্যত্যয় ঘটলে আইনি সংকটের পাশাপাশি নৈতিক বৈধতার সংকট তৈরি হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত