সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার নলকা এলাকায় যমুনা সেতু-হাটিকুমরুল মহাসড়কে চাকা ফেটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ওভারব্রিজের আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় বুশরা পরিবহনের একটি বাস। এ ঘটনায় চালকসহ ৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ১০ জন। গতকাল শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যমুনা সেতুর পশ্চিম মহাসড়কের নলকা ওভারব্রিজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করে যমুনা সেতু পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল ইসলাম জানান, উত্তরবঙ্গ থেকে ঢাকাগামী বুশরা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস ঘটনাস্থলে পৌঁছালে হঠাৎ চাকা ফেটে যায়। এ সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে বাসটি ওভারব্রিজ ও আইল্যান্ডের মাঝে প্রচ- ধাক্কায় আটকে যায়। এতে বাসের সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই ২ জন নিহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও একজনের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় অন্তত আরও ১০ জন আহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি উদ্ধারে কাজ করছে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
এদিকে রাজধানীর বনশ্রীতে ট্রাকের ধাক্কায় এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী এবং গাজীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে।
ঢাকা : রাজধানীর বনশ্রীতে আইডিয়াল স্কুল ও কলেজের সামনে ট্রাকের ধাক্কায় সুমন কাজী (৩৫) নামে এক হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রাত ২টায় তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের মামা শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আমার ভাগ্নে হার্ডওয়্যার ব্যবসায়ী। রাত ১১টার দিকে মোটরসাইকেলে বাসায় ফেরার পথে বনশ্রীর আইডিয়াল স্কুল এলাকায় দ্রুতগামী একটি ট্রাক তার মোটরসাইকেলে ধাক্কা দেয়।’
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ‘মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে রামপুরা থানা পুলিশ জানায়, ‘এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি। তবে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ট্রাকটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে।’
গাজীপুর : গাজীপুরে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে মা ও ছেলের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ রেললাইনে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার চিনাশুখানীয়া এলাকার বৃন্দাবন চন্দ্র দাসের মেয়ে মিতি রানী দাস (৩৯) ও তার ছেলে রুদ্র দাস (২)।
জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাইয়ুম আলী জানান, ‘সকালে রাজেন্দ্রপুর এলাকায় রেললাইনে ট্রেনের নিচে কাটা পড়েন মিতি রানী দাস ও তার ছেলে রুদ্র দাস। এ সময় মিতি রানী দাস ঘটনাস্থলেই মারা যান। তার ছেলে রুদ্র দাসকে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেলে শিশুটি মারা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ নিহতদের লাশ উদ্ধার করে।’ তবে মা-ছেলে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে কি না তা জানা যায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
