মুকুলে ভরে উঠেছিল গাছ, ছিল বাম্পার ফলনের স্বপ্ন। কিন্তু আগাম বৃষ্টি, শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে লিচুর বাগানগুলোতে ব্যাপক ফলন বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এখন গাছে গাছে সেই প্রত্যাশিত লিচু আর নেই । অধিকাংশ মুকুল ও গুটিই ঝরে পড়েছে।
এ ক্ষতি এড়াতে সরকারের কাছে সহযোগিতা বা ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন কৃষকরা।
ঠাকুরগাঁও জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, কয়েক সপ্তাহ আগেও যেসব গাছে থোকায় থোকায় মুকুল ছিল, এখন সেগুলো প্রায় ফাঁকা। কোথাও কোথাও হাতে গোনা কিছু লিচু ঝুলতে দেখা গেলেও অধিকাংশ বাগানেই ফলন আশানুরূপ নয় বা নেই বললেই চলে।
ঠাকুরগাঁও সদরের গোবিন্দনগর মুন্সিরহাট গ্রামের কৃষক রমজান বলেন, এবার আমার বাগানে ১৮ থেকে ২০ লাখ লিচু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শিলাবৃষ্টি আর ঝড়ে সব মুকুল ঝরে গেছে। এখন ৫০ হাজার লিচুও নেই। কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়ে গেছে।
একই গ্রামের আরেক কৃষক সবুজ জানান,গাছে যখন ফুল আসে তখন খুব আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টি আর দমকা হাওয়ায় সব নষ্ট হয়ে গেল। এখন গাছে তেমন লিচু নেই। আমাদের খরচই উঠবে না।
বাগানবাড়ি গ্রামের কৃষক রবিউল বলেন, প্রতিবছর লিচু বিক্রি করে ভালো আয় হয় এবং সারা বছর সেই আশাতেই থাকি। কিন্তু এবার যে অবস্থা, মনে হয় বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে। সরকার যদি সহযোগিতা না করে তাহলে টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে।
কৃষকদের ভাষ্যমতে, ফলন না থাকায় অনেকেই বাগানে স্প্রে ও পরিচর্যার কাজ কমিয়ে দিয়েছেন। এতে অল্প যে ফল আছে, সেটিও ঝরে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
লিচু মৌসুমকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এই অঞ্চলে তৈরি হয় অস্থায়ী কর্মসংস্থান। কিন্তু ফলন বিপর্যয়ের কারণে এবার সেই কর্মসংস্থানও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, ঠাকুরগাঁওয়ে প্রায় ২৮১ হেক্টর জমিতে বাণিজ্যিকভাবে লিচুর আবাদ রয়েছে।
ঠাকুরগাঁও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মাজেদুল ইসলাম বলেন, এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল, আমরা ভালো ফলনের আশা করেছিলাম। কিন্তু আগাম বৃষ্টি, ঝড় ও শিলাবৃষ্টির কারণে ফুল থেকে গুটি ধরার সময় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অন্যান্য ফসলের জন্য এই বৃষ্টি উপকারী হলেও লিচুর জন্য তা ক্ষতিকর হয়েছে। ক্ষতির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। সরকার চাইলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হতে পারে।
