শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, পরীক্ষায় অনিয়মের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নকল ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্র সচিব ও দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের আইনের আওতায় আনা হবে। শনিবার (৪এপ্রিল) দুপুরে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডসহ বিভিন্ন বোর্ডের কেন্দ্র সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, কুমিল্লা-৫ আসনের সংসদ সদস্য জসিম উদ্দিন, কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবুল কালাম, কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. শামছুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান ও পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান, কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসা, কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মিঞা মো. নূরুল হক ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রুহুল আমিন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষার শৃঙ্খলা রক্ষায় শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে হবে। তাঁদের সঙ্গে কোনো ধরনের চিরকুট বা বাহ্যিক কাগজপত্র রাখা যাবে না। মেয়েদের জন্য আলাদা কক্ষে তল্লাশির ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান তিনি।
শিক্ষকদের উদ্দেশে এহছানুল হক মিলন বলেন, আন্তরিকভাবে শিক্ষাদান করতে পারলে তা সাদকায়ে জারিয়া হিসেবে গণ্য হবে। শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানে কোনো ধরনের অসততা বা অনিয়ম গ্রহণযোগ্য নয়। নকল প্রতিরোধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০১ সালে কুমিল্লা থেকেই প্রথম নকলবিরোধী কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। সে অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আবারও নকলমুক্ত পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা বোর্ডে জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় বছরভেদে বড় ধরনের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। ২০২১ সালে ১৪ হাজার ৬৬২ জন, ২০২২ সালে ১৯ হাজার ৯৯৮ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৬২৩ জন, ২০২৪ সালে ১২ হাজার ১০০ জন এবং ২০২৫ সালে ৯ হাজার ৯০২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। মন্ত্রী আরও বলেন, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ইসলামপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে কেউ পাস করতে পারেনি-এ ধরনের ফলাফল উদ্বেগজনক। শিক্ষকদের নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো শিক্ষক আহত হলে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও সরকার সহায়তা দেবে। তবে শিক্ষায় অনিয়ম কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
পরীক্ষাকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি কক্ষে ক্যামেরা বসাতে হবে। বিশেষ করে এমসিকিউ পরীক্ষার সময় কারসাজি বেশি হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সে সময় যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। বিদ্যুৎ না থাকলে বিকল্প হিসেবে আইপিএসের ব্যবস্থা রাখতে হবে। কোচিং সেন্টারের বিষয়ে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে সব কিছুর লাইসেন্স থাকলেও কোচিং সেন্টারগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা উচিত নয়। এগুলোও পর্যায়ক্রমে লাইসেন্সের আওতায় আনা হবে।