মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আর্টেমিস-২ এর একজন ক্রুর তোলা কয়েকটি হাই-রেজুল্যুশন ছবি প্রকাশ করেছে। মহাকাশ যানটি এরই মধ্যে পৃথিবী থেকে চাঁদের মধ্যকার দূরত্বের অর্ধেক পাড়ি দিয়েছে। নাসা জানিয়েছে, আমাদের সবচেয়ে কাছের মহাজাগতিক প্রতিবেশীর দিকে যাওয়ার গতিপথ ঠিক করতে ক্রুরা চূড়ান্ত ইঞ্জিন বার্ন করার পর মিশনের কমান্ডার রিড ওয়াইজম্যান এই ‘চোখধাঁধানো’ ছবিগুলো তুলেছেন।
গতকাল শনিবার বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টার দিকে নাসার অনলাইন ড্যাশবোর্ডে দেখানো হয় ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে আছে। সে সময় চাঁদ থেকে মহাকাশযানটির দূরত্ব ছিল ২ লাখ ১২ হাজার ৫০০ কিলোমিটারের কম।
বিবিসি লিখেছে, ওয়াইজম্যানের তোলা ‘হ্যালো, ওয়ার্ল্ড’ ছবিতে পৃথিবীর ভেতর যে বিশাল নীল অংশ দেখা যাচ্ছে সেটি আটলান্টিক মহাসাগর। পৃথিবী সূর্যকে আড়াল করায় বায়ুম-লের চারপাশে আলোর ঝলকও সেখানে স্পষ্ট; দুই মেরুতে জ্বলজ্বল করছে সবুজ আলোকচ্ছটা। ছবিতে পৃথিবীকে উল্টো মনে হচ্ছে, বাম দিকের অংশে দেখা যাচ্ছে পশ্চিম সাহারা ও আইবেরিয়ান উপদ্বীপ, ডানে দক্ষিণ আমেরিকার পূর্বাংশ।
নাসা জানিয়েছে, ছবির ডানে নিচে থাকা উজ্জ্বল গ্রহটি শুক্র গ্রহ। আরেকটি ছবিতে পৃথিবীতে দিন-রাতের সীমারেখা বোঝা যাচ্ছে; এখানে যে রেখাটি আলো ও আঁধারকে আলাদা করেছে সেটিই ‘টার্মিনেটর’ নামে পরিচিত।
পরে নাসা আরেকটি ছবি প্রকাশ করে যেখানে প্রায়ান্ধকার পৃথিবীকে দেখা যাচ্ছে; তারমধ্যে মানবসৃষ্ট বৈদ্যুতিক আলো যেন টিমটিম করে জ্বলছে। শুক্রবার একটি ট্রান্স-লুনার ইনজেকশন বার্ন সফলভাবে সমাপ্ত করার পর ক্রুরা এসব ছবি তুলেছে। এই বার্ন-ই মহাকাশযান ওরিয়নকে পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে নিয়ে যায়। যানটিতে যে চার নভোচারী রয়েছেন চাঁদের কাছে পৌঁছাতে তাদের মোট সাড়ে তিন লাখ কিলোমিটার দূরত্ব পাড়ি দিতে হবে।
বিবিসি লিখেছে, আর্টেমিস-টু মিশনটি এখন এমন এক চক্রাকার পথে রয়েছে যা ক্রুদের চাঁদের উল্টো পিঠ ঘুরিয়ে নিয়ে আসবে। ১৯৭২ সালের পর এবারই প্রথম মানুষ পৃথিবীর কক্ষপথের বাইরে গেল। ওরিয়নের ক্রুদের সোমবার চাঁদের উল্টো পিঠ প্রদক্ষিণ এবং ১০ এপ্রিল পৃথিবীতে ফিরে আসার কথা।
ইনজেকশন বার্ন শেষ করার পর ক্রুরা ছবি তুলতে ‘জানালায় আঠার মতো সেঁটে যান’ বলে হিউস্টনের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে জানান মিশন স্পেশালিস্ট জেরেমি হ্যানসেন। তিনি বলেন, ‘চাঁদের আলোয় আলোকিত পৃথিবীর অন্ধকার দিকের দারুণ সুন্দর দৃশ্য দেখতে পাচ্ছি আমরা।’
