দিনাজপুরের হাকিমপুরে স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে ছুটির দিনে অফিসে ডেকে নিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শফিউল ইসলামকে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। গতকাল ভুক্তভোগী নারী থানায় ধর্ষণের মামলা করলে রাতেই উপজেলা প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন স্টেশনের আবাসিক ভবন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ডা. শফিউল ইসলাম রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার জারুল্যা গ্রামের আতিয়ার রহমানের ছেলে। দুবছর ধরে তিনি হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত।
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই নারীর খামারের গরুর চিকিৎসার সুবাদে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারের মাধ্যমে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। এর পরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময়ে নিজের সরকারি কোয়ার্টারে ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। সেই সঙ্গে তাকে তার স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের জন্য চাপ দেন। তার কথামতো গত বছরের ৫ অক্টোবর তিনি তার স্বামীকে তালাক দেন। পরে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি অভিযুক্ত কর্মকর্তা তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেন।
এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী পার্শ্ববর্তী বিরামপুর উপজেলায় চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। এ সময় ওই কর্মকর্তা তাকে ফোন করে অফিসে আসতে বলেন। সেখানে গেলে ওই কর্মকর্তা তাকে হিলি স্থলবন্দর প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন অফিসে ডাকেন। সেখানে যাওয়ার পর তাকে ফুঁসলিয়ে প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইন অফিসের আবাসিক ভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। ছুটির দিন হওয়ায় সেখানে তখন কেউ ছিল না। এই সুযোগে তাকে একটি কক্ষে ধর্ষণ করেন ওই কর্মকর্তা। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর শর্তে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাকে বের করে দেওয়া হয়। পরে তিনি থানায় অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করেন।
তবে অভিযুক্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল ইসলাম বলেন, ‘ওই নারীর সঙ্গে আমার আগে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর আমাদের সংসার টিকে ছিল মাত্র ২৯ দিন। পরে চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে পারস্পরিক আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়। গত শুক্রবার ওই নারী মীমাংসাসংক্রান্ত কাগজপত্র নেওয়ার জন্য আমার অফিসে আসেন।’
হাকিমপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আ ন ম নিয়ামত উল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগকারীর অভিযোগের ভিত্তিতে হাকিমপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা শফিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযোগকারী তার বিরুদ্ধে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক, পর্নোগ্রাফি অ্যাক্টের অপরাধ এবং ভ্রƒণ হত্যার অভিযোগ এনেছেন। সেই মামলার ভিত্তিতেই আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি।’
