ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিমসার বাজারে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০৪ পিএম

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নিমসার বাজার এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দুই পাশে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান করেছেন সড়ক ও জনপথ বিভাগ (সওজ)। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে এ অভিযান শুরু হয়।

সওজের কুমিল্লা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফার নেতৃত্বে এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন জানান, নিমসার বাজার এলাকায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চলমান থাকবে। 

এর আগে গত বুধবার উচ্ছেদ অভিযানের ঘোষণা দেওয়া হলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়। পরে নতুন করে অভিযান শুরু করায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের নিমসার পাইকারি বাজারকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে মহাসড়কের দুই পাশে অসংখ্য অবৈধ স্থাপনা গড়ে ওঠে। অভিযোগ রয়েছে, সওজের জায়গা দখল করে প্রভাবশালীরা শতাধিক দোকান নির্মাণ করে সেগুলো ভাড়া দিয়ে আসছিলেন।

নিমসার বাজার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ব্যবসায়ীরা এখানে সবজি, ফলমূলসহ নানা কৃষিপণ্য নিয়ে আসেন। এতে মহাসড়কের দুই পাশে ট্রাক ও কাভার্ডভ্যানের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। অনেক সময় সড়কের ওপরই পণ্য ওঠানামা করায় এবং উল্টো পথে যান চলাচলের কারণে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তি বাড়ছিল এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বেড়ে যায়। সম্প্রতি নিমসার এলাকায় একটি সড়ক দুর্ঘটনায় নোয়াখালীর জহিরুল ইসলাম ও মেহেরপুরের সোহেল রানা নিহত হন। এরপর এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয় এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ওঠে।

স্থানীয় বাসিন্দা মিজান বলেন, নিমসার একটি ঐতিহ্যবাহী কাঁচাবাজার হলেও অনিয়মের কারণে এটি এখন দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মহাসড়কের ওপর যানবাহন পার্কিং ও পণ্য ওঠানামার কারণে প্রতিনিয়ত যানজট লেগেই থাকে। সা¤প্রতিক দুর্ঘটনার পর উচ্ছেদ অভিযান শুরু হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে।

এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী খন্দকার গোলাম মোস্তফা বলেন, অভিযান প্রতিনিয়ত চলবে। সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।

সওজ সূত্র জানায়, গত ১৫ মার্চ গণবিজ্ঞপ্তি দিয়ে ১ এপ্রিলের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ৩০ মার্চ মাইকিং করে দখলদারদের সতর্ক করা হয়। কিছু ব্যবসায়ী দোকান সরিয়ে নিলেও অধিকাংশই তা উপেক্ষা করেন। অতীতেও একই ধরনের নোটিশ কার্যকর না হওয়ায় অনেকে এবারও বিষয়টি গুরুত্ব দেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত