মিঠুদের পাশে থাকার আশ্বাস

আপডেট : ০৭ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৫ এএম

ভারতকে টাইব্রেকারে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ শিরোপা ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। দুই বছর আগে নেপালের মাটিতে স্বাগতিকদের বড় ব্যবধানে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেবার শিরোপাজয়ী দল নিয়ে এতটা হইহুল্লোড় হয়নি। এবার হয়েছে অনেকটা। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে এনে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে সংবর্ধনা। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সহ-সভাপতি ও ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী ব্যক্তিগতভাবে শিরোপাজয়ী দলের প্রত্যেককে দিয়েছেন অর্থ পুরস্কার। আর সোমবার তাদের ঘটা করে সংবর্ধনা দিয়েছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফসহ প্রত্যেকের হাতে তুলে দিয়েছেন ১ লাখ টাকা অর্থ পুরস্কার ও ক্রীড়া কার্ড। পাশাপাশি সাফল্য এনে দেওয়া যুবাদের পাশে থাকার অঙ্গীকারও করেছেন মন্ত্রী।

আমিনুল নিজে ছিলেন ফুটবলার। দেশের অন্যতম সেরা গোলকিপার ধরা হয় তাকে। খেলা ছাড়ার পর রাজনীতি জড়ান। এখন ক্রীড়াঙ্গনের অভিভাবকের দায়িত্ব পেয়েছেন। দায়িত্ব নিয়েই ভীষণ কর্মব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তিনি। এর মধ্যেই ক্রীড়া কার্ড প্রচলন, জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতার আওতায় আনা, উৎসাহব্যঞ্জক অর্থ বোনাস চালুকরণের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন। সেই ধারাবাহিকতায় গতকাল সোমবার সাফজয়ী যুবাদের দিয়েছেন অর্থ পুরস্কার।

গতকাল ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রীড়া দিবস। সকালের এ উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা শেষে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সম্মেলন কক্ষে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আমিনুল। ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জয়ে বাড়তি একটা আনন্দ আছে। এ কারণেই যুবাদের অনুপ্রেরণা দিতে দেরি করেননি মন্ত্রী। উপহার তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের আরও বড় ফুটবলে হিসেবে গড়ে তুলতে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন আমিনুল, ‘এই জয় পুরো জাতির জন্য গর্বের এবং খেলোয়াড়দের সব প্রয়োজনে আমরা পাশে থাকব।

সরকারের কাছ থেকে স্বীকৃতির প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে শিরোপা তুলে দেওয়ার ইচ্ছে ব্যক্ত করেন, ‘নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রথম দল হিসেবে আমরা শিরোপা জিতলাম। আমরা এই ট্রফিটা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দিতে চাই। আমরা উনার সঙ্গে দেখা করে এই অর্জনের আনন্দ ভাগ করে নিতে চাই।’ আমিনুল সেই ব্যবস্থা করার অঙ্গীকারও করেন।

অনুষ্ঠানে সাফজয়ী তরুণদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ক্রীড়া কার্ড। তারা এখনই ক্রীড়া ভাতার আওতায় আসবেন না। তবে কার্ডের আওতায় পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পাবেন তারা। আর ভবিষ্যতে জাতীয় দলে এলে এরাই যুক্ত হবেন ক্রীড়া ভাতার আওতায়। 

আমিনুল দেশের ক্রীড়া সংগঠকদের ত্যাগের ভূয়সী প্রশংসা করেন। ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে স্বাবলম্বী করে তোলার চেষ্টার কথাও বলেছেন তিনি।  এ ক্ষেত্রে সমাজের ধনাঢ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সম্পৃক্ত করার কথাও বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাফুফের সভাপতি তাবিথ আউয়াল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলম, ওয়ার্ল্ড আর্চারি এশিয়ার সভাপতি কাজী রাজিব উদ্দিন আহমেদ চপলসহ অনেকেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত