দুনিয়াজুড়ে সমাদৃত হলিউড তারকা জ্যাকি চ্যানের নাম শুনলেই চোখে ভাসে কুংফু-মার্শাল আর্টের চোখ ধাঁধানো সব প্রদর্শনী আর দুর্দান্ত সেন্স অব হিউমারের এক অসাধারণ মিশ্রণ। নিত্য নতুন সব অ্যাকশন স্টান্ট আর হিউমার, যা তাকে এনে দিয়েছে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা। পুরো বিশ্বে এমন কেউ পাওয়া সত্যিই মুশকিল, যিনি জ্যাকির ভক্ত নন। আধুনিক অ্যাকশন সিনেমার অগ্রদূত, বিশ্বখ্যাত এ সুপারস্টার আজ স্পর্শ করলেন জীবনের ৭৩ তম বসন্ত।
১৯৫৪ সালের এই দিনে (৭ এপ্রিল) চিনের হংকং শহরে জন্ম জ্যাকি চ্যানের। বিশ্বজুড়ে 'জ্যাকি চ্যান' নামে পরিচিত হলেও জন্মসূত্রে তার নাম চ্যান কং স্যাং। শৈশব থেকেই তাকে লড়তে হয়েছে চরম দারিদ্র্যের সাথে। কম্যুনিস্ট শাসন থেকে বাঁচতে ৭ বছর বয়সী চ্যানকে হংকংয়ে রেখেই বাবা-মা পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। এরপর নিঃসঙ্গ চ্যান প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা লাভ করেন হংকংয়ের চাইনিজ অপেরা ইন্সটিটিউটে। সেখানেই শেখেন মার্শাল আর্ট, সঙ্গীত, অভিনয় ও অ্যাক্রোবেটিকস।
ভাগ্যের অন্বেষণে এক পর্যায়ে তিনিও পাড়ি জমান অস্ট্রেলিয়ায়। কাজ শুরু করেন নির্মাণ শ্রমিক হিসেবে। তবে মাত্র ১৮ বছর বয়সেই সুযোগ পান হলিউড সুপারস্টার ব্রুসলির স্টান্টম্যান হিসেবে। আর এ স্টান্টম্যানের কাজই ভাগ্য বদলে দেয় জ্যাকির।
ষাটের দশকে প্রথমবার ‘লিড রোলে’ চলচ্চিত্র অঙ্গনে পা রাখেন তিনি। অভিনয় জীবনে এখন পর্যন্ত নিজের কোনো সিনেমায় কখনও বডি ডাবল ব্যবহার করেননি জ্যাকি। নিজের স্টান্ট নিজেই করতে গিয়ে ৩ বার ভেঙ্গেছেন নাক, দুই হাতের সবগুলো আঙ্গুল, কলারবোন এমনকি মাথার খুলিও। এতোসব কাটাছেড়া আর ভাঙ্গা নিয়ে স্টান্ট করে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা তো পেয়েছেনই, গিনেজ বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসও তাকে দিয়েছে সবচেয়ে বেশি স্টান্ট করা অভিনেতার স্বীকৃতিও।
সিনেমায় যেমনটা দেখা যায়, ব্যক্তি জ্যাকি চ্যান কিন্তু তার থেকে খুব বেশি আলাদা নন। কঠিন জীবন সংগ্রাম তাকে শিখিয়েছে বিচিত্র সব বিদ্যা। অনর্গল কথা বলতে পারেন, ক্যান্টোনিজ, ম্যান্ডারিন, ইংলিশ, জাপানিজ, জার্মান, কোরিয়ান ও থাই ভাষায়। ৫৬ বছরের চলচ্চিত্র ক্যারিয়ারে অভিনয় করেছেন দুইশোর বেশি সিনেমায়, পেয়েছেন জগৎজোড়া খ্যাতি। ২০১৬ সালে অর্জনের খাতায় যোগ করেছেন অস্কারও।
তামিল অভিনেত্রী সুভাষিণীর রহস্যজনক মৃত্যু
জয়পুরহাটে বাড়ছে ‘হামে’র প্রকোপ
ইরানের ভয়ে সৌদি বন্ধ করল বৃহত্তম সেতু
২৫ কোটির ক্যামেরন গ্রিন তিন ম্যাচে করলেন ২৪ রান; সমালোচনার ঝড়