রিয়ালের ঘোর দুঃসময়: ঘরের মাঠে বায়ার্নের কাছে হার

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৩২ এএম

সান্তিয়াগো বার্নাব্যুর রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে রিয়াল মাদ্রিদকে তাদেরই মাঠে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুবিধাজনক অবস্থানে পৌঁছে গেল বায়ার্ন মিউনিখ। ‘বিশেষ’ হ্যারি কেইন আর লুইস দিয়াজের লক্ষ্যভেদে ২-১ ব্যবধানের জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছে থমাস টুখেলের শিষ্যরা। হারের তিক্ততা নিয়ে মাঠ ছাড়লেও রিয়ালের প্রাপ্তি বলতে কিলিয়ান এমবাপ্পের গোল এবং চোট কাটিয়ে জুড বেলিংহামের মাঠে ফেরা।

বিশ্বকাপের দামামা বাজতে শুরু করায় এই ম্যাচটি কেবল ক্লাবের লড়াই ছিল না, বরং অনেক ফুটবলারের জন্য ছিল নিজেদের প্রমাণের মঞ্চ। বিশেষ করে টুখেলের নজরে থাকা ট্রেন্ট আলেকজান্ডার আর্নল্ডের জন্য রাতটি ছিল অম্লমধুর। বায়ার্নের আক্রমণভাগের চাপে প্রথমার্ধে বেশ নড়বড়ে ছিলেন লিভারপুলের সাবেক এই রাইট-ব্যাক। তাঁর একটি ভুল পাস থেকে গোল করার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বায়ার্ন। সেই ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই আর্নল্ডের নজর এড়িয়ে ভেতরে ঢুকে চমৎকার এক গোল করে বায়ার্নকে এগিয়ে দেন লুইস দিয়াজ।

তবে বিরতির পর আক্রমণের ধার বাড়িয়ে খলনায়ক থেকে নায়ক হওয়ার চেষ্টা করেছেন আর্নল্ড। তাঁর নিখুঁত এক নিচু ক্রস থেকেই গোল করে রিয়ালকে সমতায় ফিরিয়েছিলেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। কিন্তু বায়ার্নের জয়ের পথে বাধা হতে পারেননি কেউই। দলের প্রাণভোমরা হ্যারি কেইন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তিনি এই মুহূর্তে বিশ্বের অন্যতম সেরা স্ট্রাইকার। তাঁর গোলেই শেষ পর্যন্ত বার্নাব্যু থেকে জয় ছিনিয়ে নেয় বাভারিয়ানরা।

ম্যাচের ৬০ মিনিটের মাথায় রিয়ালের হয়ে বদলি হিসেবে নামেন জুড বেলিংহাম। হ্যামস্ট্রিং চোটের কারণে লম্বা সময় মাঠের বাইরে থাকার পর তাঁর ফিরে আসা মাদ্রিদ সমর্থকদের মনে স্বস্তি দিলেও দলের পরাজয় রুখতে পারেননি তিনি। তবে মাঠে নামার পর মাঝমাঠের গতি বাড়িয়ে টুখেলকে বার্তা দিয়ে রেখেছেন এই তরুণ তুর্কি।

একদিকে হ্যারি কেইনের গোল আর অন্যদিকে আর্নল্ডের রক্ষণের দুর্বলতা—সব মিলিয়ে টুখেলের নোটবুক এখন বেশ ভারি। জয়ের তৃপ্তি নিয়ে ফিরলেও বিশ্বকাপ স্কোয়াড সাজানোর আগে টুখেলের সামনে এখন অনেক প্রশ্ন। অন্যদিকে, ঘরের মাঠে হেরে কিছুটা চাপে পড়ল কার্লো আনচেলত্তির দল। ফিরতি লেগে ঘুরে দাঁড়ানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ এখন লস ব্লাঙ্কোসদের সামনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত