দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির বাজারে জীবনযাত্রার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে একাট্টা হয়েছেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার (৮ এপ্রিল) রাঙামাটি, গাজীপুর ও ময়মনসিংহসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি।
রাঙ্গামাটিতে জেলা কমিটির আহবায়ক পঙ্কজ মল্লিক এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিমের নেতৃত্বে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তর করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সমিতির নেতা আবু বক্কর, নুরুল হুদা আরিফ, শাহিনা সুলতানা, ডালিয়া ত্রিপুরা ও শহিদুল ইসলাম মানিকসহ অন্য সদস্যবৃন্দ। একইভাবে গাজীপুর ও ময়মনসিংহেও স্থানীয় জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে জানানো হয়, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হলেও নতুন কোনো বেতন কাঠামো ঘোষণা করা হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে বাড়ি ভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। জীবনযাত্রার মান বজায় রাখা এখন তাদের জন্য অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন বেতন কাঠামো অপরিবর্তিত থাকায় সরকারি চাকরির প্রতি মেধাবীদের আকর্ষণ কমছে এবং কর্মরতদের মধ্যে মানসিক চাপ বাড়ছে, যা রাষ্ট্রীয় সেবার মানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কর্মচারীদের এই সংকট নিরসনে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রেখে দ্রুত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়।
জেলাগুলোতে স্মারকলিপি প্রদানকালে বক্তারা আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী মানবিক দিক বিবেচনা করে সরকারি কর্মচারীদের এই ন্যায্য ও যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
