সভা ছাড়াই জাকসুর সেমিনার আয়োজন, অভিযোগ ভিপির

আপডেট : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ পিএম

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জাকসু)-এর ব্যানারে সেমিনার আয়োজনকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির অভ্যন্তরে তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। সভা ছাড়াই একতরফাভাবে সেমিনারের আয়োজনের অভিযোগ তুলেছেন জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু।

জাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামী বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান মিলনায়তনের সেমিনার কক্ষে ‘গণভোট অস্বীকার ও অধ্যাদেশ বাতিলের রাজনীতি: সংসদীয় স্বৈরতন্ত্রে প্রবেশ এবং সংকটের পথে দেশ’ শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। 

সেমিনারে আলোচক হিসেবে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী, অ্যাডভোকেট আবু হেনা রাজ্জাকি, ডাকসু ভিপি আবু সাদিক কায়েম, সাঈফ মোস্তাফিজ, মনিরা শারমিন, জাহিদ আহসান ও জাহিদুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

এ বিষয়ে ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, সেমিনারের বিষয়বস্তু, অতিথি নির্বাচন, বাজেট কিংবা সময়সূচি কোনো বিষয়েই জাকসুর আনুষ্ঠানিক সভা বা সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।

তিনি বলেন, জাকসুর মতো একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে সকল সদস্যের অংশগ্রহণ অপরিহার্য। কিন্তু এখানে প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের একতরফা সিদ্ধান্ত সংগঠনের গণতান্ত্রিক চর্চাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং এটি ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থে ব্যবহারের ইঙ্গিত বহন করে। গঠনতন্ত্র মেনে সভার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ওপর জোর দেন তিনি।

তবে ভিপির অভিযোগকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন জাকসুর সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও সমাজসেবা সম্পাদক আহসান লাবিব।

জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, সেমিনারের বিষয়ে পূর্বেই ভিপিকে জানানো হয়েছিল এবং তিনি প্রাথমিকভাবে সম্মতি দেন। পরবর্তীতে খসড়া চূড়ান্ত করার সময় তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

অন্যদিকে আহসান লাবিব জানান, ভিপির সঙ্গে আলোচনা করেই প্রাথমিকভাবে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছিল। গেস্ট প্যানেল চূড়ান্ত হওয়ার আগে তাকে অবহিত করার চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হলেও সবাই অংশ নিতে রাজি হননি। তবুও গণতান্ত্রিক আলোচনার স্বার্থে আয়োজনটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আলোচনা আয়োজনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে অনেকে মনে করছেন, ছাত্র সংসদের মতো প্রতিষ্ঠানে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত