হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি করার জন্য ইরানকে ৭ এপ্রিল রাত ৮টা পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা না হলে আরও বড় ধরনের হামলা চালিয়ে ইরানেকে পুরোপুরি ধ্বংসের হুমকি দেওয়া হয়। এ পরিস্থিতিতে ব্যাপক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে স্বস্তির খবরটি আসে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মাধ্যমে। তিনি জানান, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র উভয়ই দুই সপ্তাহের জন্য যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। পাকিস্তান ও চীনের মধ্যস্থতায় এ যুদ্ধবিরতি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইরান যুদ্ধের অবসান ঘটতে যাচ্ছে বলে আশা করছেন বিশ্ব নেতারা। যদিও যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার পরেও মধ্যপ্রাচ্যে দুয়েকটি জায়গায় হামলার ঘটনা ঘটেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য সব পক্ষকে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এ ছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারাও এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এদিকে যুদ্ধবিরতিকে একটি চূড়ান্ত চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে আলোচনার জন্য কাল শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে বসবে।
সাময়িক এই যুদ্ধবিরতিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তেহরান উভয় পক্ষই নিজেদের বিজয় বলে দাবি করেছে। ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে তাদের ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জিত হয়েছে। ইসরায়েলও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন দিয়েছে। তবে রাশিয়া বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একমুখী, আগ্রাসী ও বিনা উসকানিতে আক্রমণ’-এর পন্থাটি ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েেেছ। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আরও আক্রমণাত্মক ও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ খুব কাছেই এ ধরনের যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল, সেই অবস্থান আবারও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একমুখী, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।
জাখারোভা বলেন, রাশিয়া শুরু থেকেই ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অবিলম্বে বন্ধ এবং একটি ‘বাস্তব রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধান’ শুরুর প্রয়োজনীয়তার কথা বলে আসছে। পাশাপাশি মস্কো মনে করে, এ পরিস্থিতির কোনো সামরিক সমাধান নেই।
ট্রাম্প জানিয়েেেছন, ইরানে এখন পর্যন্ত যতটুকু পরমাণু সমৃদ্ধ করা হয়েছে, সেগুলো ‘যথোপযুক্তভাবে সেগুলো দেখভালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। তবে ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি।
ইসলামাবাদে আলোচনায় যারা থাকছেন: যুদ্ধবিরতিকে এক চূড়ান্ত চুক্তির দিকে নিয়ে যেতে আলোচনার জন্য চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রতিনিধিদল ইসলামাবাদে বসবে। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় জানান, ‘আমি উভয় দেশের নেতৃত্বের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি এবং তাদের প্রতিনিধিদলকে শুক্রবার ইসলামাবাদে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে সব বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে একটি চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা এগিয়ে নেওয়া যায়।’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবারের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে থাকতে পারেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ও মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিফেন উইটকফ। অন্যদিকে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে দেশটির পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আইএসএনএ এ তথ্য জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাও বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে পাকিস্তান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং প্রতিবেশী ইরানের পরিস্থিতির প্রতি সংবেদনশীলতার কারণে ইসলামাবাদের এ ভূমিকা গুরুত্ব পেয়েছে। শরিফ বলেন, ‘আমরা আন্তরিকভাবে আশা করছি, ইসলামাবাদ আলোচনা টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠায় সফল হবে এবং আগামী দিনগুলোতে আরও ভালো খবর দিতে পারব।’
যদিও আলোচনায় শেষ পর্যন্ত তাতে কতটা সফলতা আসবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, অতীতে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে এমন আলোচনা হলেও মতানৈক্য না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত তা সামরিক উত্তেজনায় গড়াতে দেখা গেছে।
ইরানের ১০ শর্ত : বহু দেনদরবারের মধ্যে সম্প্রতি পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুদ্ধ থামানোর জন্য ইরানের পক্ষ থেকে ১০টি শর্ত তুলে ধরা হয় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে। এর আগে ট্রাম্প গত মাসে ১৫টি শর্ত তুলে ধরে সেগুলো মেনে নেওয়ার জন্য ইরানের শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন। ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আসার আগে ইরানের পক্ষ থেকে তার কাছে ১০টি শর্ত উপস্থাপন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে তিনি লেখেন, ‘পাকিস্তান সরকারের অনুরোধ এবং ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া ১০ দফার একটি প্রস্তাবের ভিত্তিতে আমরা এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বিশ্বাস করি, এ প্রস্তাব আলোচনার একটি কার্যকর ভিত্তি হতে পারে।’
ইরানের সরকারি গণমাধ্যমে শর্ত ১০টি তুলে ধরা হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে রয়েছে ইরান ও তার মিত্রদের ওপর পুনরায় হামলা না হওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান। হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকা। ইরানের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচিতে বাধা প্রদান না করা। ইরানের ওপর থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বিদেশে আটকে থাকা ইরানের সব সম্পদ ও সম্পত্তি অবিলম্বে ফেরত প্রদান। ইরানের বিরুদ্ধে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তোলা সব প্রস্তাব বাতিল করা। আন্তর্জাতিক পরমাণুশক্তি সংস্থার প্রস্তাবগুলোও বাতিল করা। ইরানকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া। মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার। এবং লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
ইরানের গণমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এসব শর্ত মেনে নিয়েছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র সেটি নিশ্চিত করেনি। তবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার বিষয়ে উভয়পক্ষ যে একমত হয়েছে, সেটি নিশ্চিত করেছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি। সেই সঙ্গে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করলেও সেটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছে তেহরান।
ট্রাম্পের পরিকল্পনায় যা ছিল: মার্চের শেষ দিকে পাকিস্তানের মাধ্যমে ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনা পাঠিয়ে সেগুলো মেনে নেওয়ার জন্য ইরানের শাসকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। যদিও ইরান তখন সেটি প্রত্যাখ্যান করেছিল। কিন্ত যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পর ইরান সরকারের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে হোয়াইট হাউজ। সেখানে ইরানের ১০ দফা শান্তি প্রস্তাবের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ১৫ দফা শান্তি পরিকল্পনার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাম্পের সেই পরিকল্পনা প্রকাশ করা হয়নি। তবে জানা যাচ্ছে, সেখানে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার বিষয়টি ছিল।
‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ : ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র যে একটি ‘পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত বিজয়’ অর্জন করেছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার পাশাপাশি ইরানের সমৃদ্ধ পরমাণুর ‘ঠিকমতো দেখভাল করা হবে’ বলে জানান তিনি। ‘সেটা না হলে আমি মীমাংসা করতাম না, ’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন ট্রাম্প। তবে ইরানের ইউরেনিয়ামের বিষয়ে ঠিক কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি তিনি। যুদ্ধবিরতির জন্য ইরানকে রাজি করানোর ক্ষেত্রে চীনও ভূমিকা রেখেছে বলে জানতে পেরেছেন ট্রাম্প।
যুদ্ধবিরতি ভেস্তে গেলে যুক্তরাষ্ট্রে আবার ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সেতু ধ্বংস করার অবস্থানে ফিরে যাবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সেটা আপনারা দেখতে পাবেন’। সামাজিক মাধ্যমের এক বার্তায় হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট বলেছেন, ‘এটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিজয়, যা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের অসাধারণ সামরিক বাহিনীর কারণে সম্ভব হয়েছে।’ ইরানে পরিচালিত মার্কিন সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ ছয় সপ্তাহ স্থায়ী হওয়ার কথা থাকলেও তার আগেই যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্য অর্জনে সক্ষম হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অন্যদিকে ইরান সরকারও এটিকে নিজেদের একটি ‘বড় বিজয়’ হিসেবে তুলে ধরছে। ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ (এসএনএসসিআই) এক বিবৃতিতে বলেছে, ইরান এ যুদ্ধে তার ‘প্রায় সব লক্ষ্যেই অর্জন করেছে এবং শত্রুপক্ষ একটি ঐতিহাসিক ব্যর্থতার সম্মুখীন হয়েছে।’
এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে ইসরায়েল আনুষ্ঠানিকভাবে বিবৃতি প্রকাশ করেছে। সেখানে বলা হয়েছে, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অবকাঠামোর ওপর সব ধরনের হামলা বন্ধ করার শর্তে দুই সপ্তাহের জন্য ইরানের ওপর হামলা স্থগিত রাখার যে সিদ্ধান্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিয়েছেন, ইসরায়েল তা সমর্থন করে। তবে দুই সপ্তাহের এ যুদ্ধবিরতি লেবাননের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না বলে জানিয়েছে ইসরায়েল।
যদিও যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ আগে জানিয়েছিলেন, লেবাননও এই যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তবে রাশিয়া বলেছে, ইরানের বিরুদ্ধে ‘একমুখী, আগ্রাসী ও বিনা উসকানিতে আক্রমণ’-এর পন্থাটি ‘চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়াা জাখারোভা স্পুটনিক রেডিওকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আরও আক্রমণাত্মক হওয়া, আরও আগ্রাসী হওয়া, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরও সক্রিয় থাকা এবং ‘জয়’ খুব কাছেই এ ধরনের যেসব বক্তব্য দেওয়া হচ্ছিল, সেই অবস্থান আবারও চূড়ান্তভাবে ব্যর্থ হয়েছে। একই সঙ্গে এমন একমুখী, আক্রমণাত্মক ও উসকানিহীন হামলার কৌশলও ব্যর্থ হয়েছে।
কোন দেশে হতাহত কত : গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মাধ্যমে ইরানে এই সংঘাতের সূচনা হয়। এই যুদ্ধে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ও ক্ষতি হয়েছে ইরানে। এর পরের অবস্থানে লেবানন, যেখানে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইরানের পাল্টা হামলার ফলে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলোতেও উল্লেখযোগ্য ক্ষতির খবর সামনে এসেছে।
পাল্টাপাল্টি হামলায় ক্ষতির ব্যাপকতা : উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা এবং ইরানে হামলার নেতৃত্বদানকারী সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) যুদ্ধবিরতি ঘোষণার আগের দিন ৬ এপ্রিল জানায়, তাদের বাহিনী এ পর্যন্ত ইরানের ১৩ হাজারেরও বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম আরও জানায়, তাদের অভিযানে ১৫৫টিরও বেশি ইরানি নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর গত ১ এপ্রিলের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে দেশটির বিমানবাহিনী ইরানে ১৬ হাজারেরও বেশি বোমা নিক্ষেপ করেছে। আইডিএফের দাবি, ইরানের চার হাজার লক্ষ্যবস্তুর ওপর ১০ হাজার পৃথক হামলা চালিয়েছে তারা। এসব লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র, অস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্র, পারমাণবিক স্থাপনা এবং বিভিন্ন সামরিক সদর দপ্তর ও শীর্ষ নেতৃত্ব। বিবিসির তথ্যানুযায়ী, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত নয়টি উড়োজাহাজ ভূপাতিত বা ধ্বংস হয়েছে। এর মধ্যে গত ২ মার্চ কুয়েতের আকাশে প্রতিরক্ষাব্যবস্থার ভুলবশত তিনটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত হয়।