৫০ বছর পর ভ্রমণের বকেয়া পরিশোধ করলে মফিজুল

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ পিএম

পঞ্চাশ বছর আগে কিশোর ও যুবক বয়সে নানা সময় বিনা পয়সায় ট্রেন ভ্রমনের বকেয়া টাকা ফের দিয়ে এক মহৎ কাজের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন গাজীপুরের শ্রীপুরের মফিকুল ইসলাম বেপারি। এ ‘ঋণ’ পরিশোধ করতে পেরে দারুন খুশি আর তৃপ্তি পেয়েছেন ৬৫ বছর বয়নের এই বৃদ্ধ।

বৃদ্ধ মফিজুল ইসলাম বেপারি প্রায় ৫০ বছর আগে কিশোর বয়সে রেলের টিকিট না কেটে ভ্রমণের সেই ‘ঋণ’ বাবদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেন।

গত ২৮ মার্চ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের হাতে ২০ হাজার টাকা তুলে দেন। সম্প্রতি বিষয়টি জানাজানি হয়।

মফিজুল ইসলাম বেপারি পৌরশহরের চন্নাপাড়া গ্রামের আবদুল মান্নান বেপারির ছেলে। বর্তমানে তিনি বেপারিবাড়ি ফাতেমাতুয যাহেরা মহিলা মাদরাসা পরিচালনা করছেন। পাঁচ সন্তানের জনক মফিজুল ইসলামের এই সততা এখন এলাকার মানুষের মুখে মুখে। রেল কর্তৃপক্ষও তার এই কাজে দারুন খুশি।

মফিজুল ইসলাম বেপারি জানান, ১৯৭৬ থেকে ১৯৭৮ সালের ঘটনা। তখন মফিজুল জীবিকার তাগিদে কাঁঠালের ব্যবসা শুরু করেছিলেন । শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে ট্রেনের ছাদে চড়ে ঢাকায় কাঁঠাল নিয়ে যেতেন। সেই সময়ে ট্রেনের ছাদে যাতায়াতের জন্য কোনো টিকিট কাটতেন না তিনি। পরিবর্তে ট্রেনের দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যদের হাতে ধরিয়ে দিতেন ১-২ টাকা। এভাবেই চলত নিয়মিত যাতায়াত। কিন্তু রেলওয়ের কোষাগারে জমা হতো না কোনো অর্থ। দীর্ঘ পাঁচ দশক পর এসে মফিজুল ইসলাম বেপারি অনুভব করেন, সেই সময় দেওয়া ১ টাকা পুলিশের পকেটে গেলেও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ কিন্তু তাদের পাওনা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তাই নিজের বিবেকের তাগিদে মফিজুল ইসলাম বেপারি ৫০ বছর পর সে রেলওয়ের ‘ঋণ’ পরিশোধ করতে আগ্রহী হয়ে উঠেন। পরে তিনি নগদ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ করেন।

তিনি বলেন, দুই-তিন বছর টিকিট ছাড়াই যাতায়াত করছি। বিবেকের কাছে আমি দায়বদ্ধ ছিলাম। অবশেষে গত ২৮শে মার্চ রেলওয়ের বিশেষ রশিদের (মানি রিসিট) মাধ্যমে তিনি ২০ হাজার টাকা জমা দিয়ে দায়মুক্ত হয়েছি। তিনি বলেন, এখন নিজেকে দারুন হালকা লাগছে।

শ্রীপুর রেলস্টেশন মাস্টার মো. সাইদুর রহমান জানান,মফিজুল সাহেব এসে বিষয়টি খুলে বললেন। তিনি বলেন রেলওয়েতে এভাবে পুরনো বকেয়া বা দায়মুক্তির টাকা পরিশোধের একটি আইনি বিধান রয়েছে।

রেল মাস্টার বলেন, মফিজুলের চিন্তায় আমরা বিস্ময় ও মুগ্ধ হয়েছি। সবার এমন সাদা চিন্তা থাকে না। তিনি নিজেই আগ্রহী হয়ে দায় মুক্ত হতে চেয়েছেন। এটা নজির হয়ে থাকবে সততা আর সুন্দরের। তার এমন মহৎ কাজ অবশ্যই প্রশংসার দাবি রাখে। এটি সত্যিই একটি চমৎকার মানসিকতার দৃষ্টান্ত। আশা করছি তিনি মানসিকভাবে নিজেকে দারুন হালকা মনে করছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত