সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি আবদুল মতিন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও সুপ্রিম কোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ হলো বিচার বিভাগকে পৃথক করতে ঐতিহাসিক মাসদার হোসেন মামলার রায়ের প্রতিফলন। কিন্তু জাতীয় সংসদে এ দুটি অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের হৃৎপিণ্ডে হাত দিয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী এবং তা সর্বনাশ ডেকে আনবে বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ-২০২৫ এবং সুপ্রিমকোর্টে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ নিয়ে এক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
মানবাধিকার সংগঠন 'হিউম্যানিটি ফাউন্ডেশন' এবং 'আইন ও বিচার' পত্রিকা এ আলোচনার আয়োজন করে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও পত্রিকার সম্পাদক মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
বিচারপতি আবদুল মতিন সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা এই আইন দুটি বাতিল করে দিলেন। বললেন, এর চেয়ে ভালো আইন করবেন। অথচ চাইলে এই আইন করে পরে সংশোধন করতে পারতেন।
আলোচনায় বিচার বিভাগ পৃথক করণ মামলার অন্যতম বাদী অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মাসদার হোসেন বলেন, বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ ও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলের ফল ভালো হবে না। সরকারের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ক্ষমতা আছে কলমের খোঁচায় এতগুলো জিনিস মসনদে বসে বাতিল করে দিচ্ছেন। এই মুহূর্তে হ্যাঁ-না ভোট করুন, জরিপ করুন, বেশিরভাগ ভাগ লোক আপনাদের কাজের বিরুদ্ধে মতামত দেবে। যেগুলো হচ্ছে বিচার বিভাগকে পদদলিত করা।
তিনি আরও বলেন, গুটি কয়েক মানুষের চিন্তা-চেতনায় এসব কাজ করছেন এগুলোর ফল ভালো হবে না।
বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট দেওয়ার কারণে ২৮ বিচারকের কাছে আইন ও বিচার মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা চাওয়ার সমালোচনা করে মাসদার হোসেন বলেন, আইন মন্ত্রণালয় জজদের শোকজ করেছে। মনে রাখবেন, বিচারকদের একটা আলপিনের দরকার হলেও সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়। অথচ আইনমন্ত্রী কোন কর্তৃত্ব বলে এটা করেছেন?
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলনকারীদের রক্তের ওপর আপনাদের মসনদ বসা আছে। আপনারা এমনি এমনি উড়ে আসেননি। তাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করবেন না।
আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক, ওমর ফারুক, আইনজীবী হাসান তারিক চৌধুরী প্রমুখ।
